ইউক্রেনের রাজধানীতে কয়েক দফা ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, নিহত ৩ জন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আক্রমণ চালাতে এগিয়ে আসছে একটি ড্রোন, ১৭ অক্টোবর ২০২২।

ইউক্রেনের রাজধানীতে সোমবার বিস্ফোরক বোঝাই একঝাঁক রুশ ড্রোন হামলা চালায়। হামলাগুলোতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এমন হামলার ফলে কিয়েভের কিছু কিছু বাসিন্দা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অন্যরা আক্রমণ চালানো ড্রোনগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেন।

এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোনের ফলে বেশকিছু ভবনে আগুন লেগে যায় এবং অপর আরেকটি ড্রোন একটি ভবনে একটি গহ্বর সৃষ্টি করে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ১৩টি এমন মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করেছে।

এই হামলাগুলোর এক সপ্তাহ আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিয়েভে কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটায়। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ড্রোনগুলো ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন। রাশিয়া ঐ ড্রোনগুলো তথাকথিত ‘কামিকাজে’ (আত্মঘাতী) হামলা চালাতে ব্যবহার করেছে। এমন হামলায় ড্রোনগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে আছড়ে পড়ে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি টেলিগ্রামে লেখেন, “সারারাত ও সারা সকাল শত্রু বেসামরিক মানুষদের ত্রাসের মধ্যে রাখে। কামিকাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমগ্র ইউক্রেনজুড়েই হামলা চালাচ্ছে। শত্রু আমাদের শহরগুলোতে হামলা চালাতে পারবে, কিন্তু তারা আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না।”

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে উদ্ধৃত করে জেলেন্সকি এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, রাশিয়া ইরান থেকে ২,৪০০টি শাহেদ ড্রোনের ক্রয়াদেশ দিয়েছে এবং তারপর জেরান-২ ড্রোন হিসেবে সেগুলোর নাম পরিবর্তন করেছে, রুশ ভাষায় যার অর্থ হল জেরানিয়াম। রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

ড্রোনগুলোতে বিস্ফোরক ভরা থাকে এবং সেগুলো লক্ষ্যবস্তুর উপরে অনেকক্ষণ ধরে ঘুরতে থাকতে পারে। এরপরই সেগুলো খাড়াভাবে নেমে এসে লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালায়। এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং প্রতিটির দাম মাত্র ২০,০০০ ডলারের মত। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে এমন ব্যবস্থার মাধ্যমে শক্তিশালী করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে, যেটি ব্যবহার করে ড্রোনকে ভূপাতিত করা সম্ভব। তবে এমন ব্যবস্থাগুলোর বেশিরভাগেরই এখনও এসে পৌঁছনো বাকি রয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিশকো বলেন, সোমবারের হামলাগুলো ধাপে ধাপে ২৮টি ড্রোনের মাধ্যমে করা হয়েছে এবং আক্রমণের শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে মধ্যাঞ্চলের শেভচেঙ্কো ডিস্ট্রিক্টও রয়েছে।। গত সপ্তাহেও ঐ এলাকাটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। কিছু কিছু ইউক্রেনীয় বলছেন যে, তারা শঙ্কিত যে এমন ড্রোন হামলা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, কারণ রাশিয়া তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ হ্রাস পাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছে।