জিয়ার শাসনামলে সামরিক আদালতে ৮৮ জনের দণ্ড কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, সামরিক আদালতে ৮৮ জনের দণ্ড প্রদান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না; তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রুলে ১৯৭৭ সালের মার্শাল ল’ রেগুলেশনে গঠিত ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত করা ও দণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে আবেদনকারীদের দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচনার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না; তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা নিয়মিত অবসরে গেলে যে বেতন, সুবিধা এবং পেনশনের অর্থ পেতেন, তা প্রদানে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না; রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে, মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমান বাহিনীর এক বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক আদালতে দণ্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিটে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সামরিক আদালতে দণ্ডিতদের চাকরির স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ পর্যন্ত বেতন, অন্যসব সুবিধা, পেনশন পাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

ঐ সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সাইদুর রহমানের ছেলে মো. কামরুজ্জামান মিঞা লেলিনসহ বিমান বাহিনীর ১৪ জন মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত সেনা ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সন্তানসহ ৮৮ জনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মতিউর রহমান রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এই রিটের ওপর শুনানি হয় মঙ্গলবার।

রিটকারী আইনজীবী মতিউর রহমান রিট দায়েরের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মার্শাল ল রেগুলেশন ১৯৭৭’ দ্বারা সামরিক আদালতে জিয়াউর রহমান অন্যায়ভাবে বিচার করেছিলেন। সেই বিচারে যাদের ফাঁসি হয়েছিল, যাদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল এবং যারা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, সেসব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার জন্য রিট আবেদন করা হয়েছে।”