পুলিশ হেফাজতে একজন তরুণীর মৃত্যুর পর ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ৩৩ তম দিনে গড়ালো।তেহরান, সানন্দাজ এবং দেহগোলানে রাতভর বিক্ষোভে নাগরিকরা “খামেনির মৃত্যু” স্লোগান দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভকে সহিংসভাবে দমন-পীড়নের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন বলে নিন্দা
জানিয়েছে। তারা ইরানি কর্মকর্তাদের প্রতি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের
বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের মারাত্মক দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর কয়েকদিন পর বিক্ষোভ শুরু হয়। হিজাব দিয়ে চুল ঠিকভাবে ঢেকে না রাখায় ইরানের নৈতিকতা পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল।
হিউম্যান রাইটস ইরান নামের গোষ্ঠীটি এই সপ্তাহে বলেছে, দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভের ওপর দমন-পীড়নের ফলে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ২১৫-তে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৭ জন ছিল শিশু।
ইরানের সরকার দাবি করেছে, আমিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং তার ওপর কোনো অত্যাচার করা হয়নি। আমিনির পরিবার বলেছে, তার হৃদরোগের কোনো ইতিহাস নেই এবং তার মৃতদেহে ক্ষত ও প্রহারের চিহ্ন ছিল।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিক্ষোভের ঘটনায় ১৪টি দেশের নাগরিকদের ইরানে আটক করা হয়েছে। বুধবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদমাধ্যম এ সংবাদ জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন।