কারাদণ্ড শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুমার অভিযোগ আদালত অবিচার করেছে

জোহানেসবার্গ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের স্যানডনে অবস্থিত দ্য ম্যাসলো হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা, ২২ অক্টোবর ২০২২।

দক্ষিণ আফ্রিকার কেলেঙ্কারি-বিজড়িত সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা, আদালত অবমাননার দায়ে ১৫ মাস কারাদণ্ডের মেয়াদ পূর্ণ করার পর, শনিবার প্রথম গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। এসময়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশটির বিচারব্যবস্থা অন্যায্য এবং তাতে বিদেশী স্বার্থের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

জুমা অসংখ্য দূর্নীতির অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছিলেন। এছাড়াও তার প্রায় এক দশকের শাসনামলে হওয়া সরকারি দূর্নীতির বিষয়ে একটি তদন্তে হাজিরা দিতেও ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি, যেটিকে স্থানীয়ভাবে “রাষ্ট্রীয় লুন্ঠন” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

তবু, সংবাদমাধ্যমগুলোকে জুমা বলেন যে, তাকে বিচারবহির্ভূত উপায়ে অন্যায়ভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও, বাস্তবে তাকে তলব করা হয়েছিল এবং তিনি তদন্তে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, জুমা তদন্তের বৈধতা অস্বীকার করে মূলত এমন এক চিত্র তুলে ধরতে চাচ্ছেন যে, বিচারক সাবেক এই নেতার বিরুদ্ধে এক প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করেছেন।

জুমা বলেন যে, দেশটির বিচারব্যবস্থায় বিদেশী স্বার্থ এবং সাবেক বর্ণবাদী শাসকগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষদের স্বার্থ, উভয়েরই অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

জুমা এমন দাবিও করেন যে, তদন্তে নেতৃত্বদানকারী বিচারক, প্রধান বিচারপতি রেমন্ড জোন্ডো, অন্যায়ভাবে জুমা ও তার মিত্রদের শিকার বানান, যাতে দেশটির প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে জনগণের মনোযোগ সরানো যায়।

২০২১ এর জুলাইয়ে তার গ্রেফতারের সময়ে, জুমার নিজের প্রদেশ, কোয়াজুলু নাটাল-এ তার সমর্থকদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে দাঙ্গায় রূপ নিয়েছিল। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ডলারের অবকাঠামোর ক্ষতি হয় এবং মালপত্র চুরি যায়।

এই সপ্তাহে এর আগে পুলিশ জানায় যে, জুমার কন্যাদের একজনের বিরুদ্ধে অশান্তি উস্কে দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

১৫ মাসের কারাদণ্ডের মধ্যে জুমা মাত্র ৩ মাস কারাবাস ভোগ করেন। অপ্রকাশিত এক রোগের ফলে তাকে স্বাস্থ্যগত কারণে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

শনিবার বক্তব্য দেওয়ার সময়ে, দেশটির আদালতে তার তথাকথিত অনুপ্রবেশের অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি জুমা। দেশটির অনেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপক দূর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতকেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

.