চীনের নেতা হিসেবে তৃতীয় মেয়াদ আরম্ভ করলেন শি; প্রাধান্য দিলেন অনুগতদের

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর নেতৃত্বে নতুন পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, ২৩ অক্টোবর ২০২২।

চীনে শি জিনপিং-এর দশ বছরের নেতৃত্বের পর, তার শাসনামলে আরও পাঁচ বছর থাকার সম্ভাবনাকে কেউ কেউ বাঁকা চোখে দেখছেন, আবার কেউ কেউ সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে শি-র প্রশাসনের এবারের উচ্চপদস্থ নেতাদের তিনি নিজেই বাছাই করেছেন।

লিয়া নামে পরিচয় দানকারী বেইজিংয়ের এক বাসিন্দা বলেন, “আমার পরিচিত অনেকেই তাকে খুব একটা পছন্দ করেন না। গত ১০ বছরে আয় বৃদ্ধি পেলেও মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে; সবকিছুই আরও অনেক বেশি দামি হয়ে গিয়েছে। আমরা তার থাকায় খুব বেশি সুবিধা দেখি না।”

লিয়া এমন বিষয়েও হতাশ যে শি চীনের তিন বছর ধরে চলা শূন্য-কোভিড নীতিটি চালু রাখার পরিকল্পনা করছেন। এই নীতিতে হঠাৎ শহরগুলোতে লকডাউন দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে চীনের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ফুজিয়ান প্রদেশের জন্মগত অধিবাসী ও হংকংয়ে ছোট একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, শু শেনগ্যি বলেন যে, তিনি শি-র করব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে “অভিন্ন উন্নয়ন” এর পরিকল্পনার সাথে একমত।

তবে অন্যরা শি-র প্রতি অনাস্থাও প্রকাশ করেছেন।

কর্তৃপক্ষ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, এমন শঙ্কায় নিজের নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে এক নারী বলেন, “২০১৮ সালে আমার তার (শি)প্রতি আস্থা ছিল, তবে তার পর থেকে তিনি যেভাবে মহামারী সামলেছেন তাতে আমি আস্থা হারিয়েছি। এখন আমার নিরাশ লাগে।”

কেউ কেউ এমন দুশ্চিন্তার কথাও জানিয়েছেন যে, শি-র অধীনে তাদের প্রাত্যহিক জীবনে সরকারের হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

অন্যরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) পরিষেবা বন্ধ করেছে, যার ফলে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত বিদেশী ওয়েবসাইট ও সেন্সর করা তথ্য দেখতে পান না। ধারণা করা হয় যে, কমিউনিস্ট পার্টি রঙিন বিপ্লবগুলো নিয়ে এবং এমন পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা নিয়ে চিন্তিত, যেগুলো দেশটি নিয়ে তাদের পরিকল্পনায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, বা এমনকি তাদের শাসনকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।