পাকিস্তানের বিশিষ্ট সাংবাদিক কেনিয়ায় পুলিশের হাতে নিহত

ইসলামাবাদে একটি স্টুডিওতে আরশাদ শরীফ তার টক শো-র একটি পর্ব রেকর্ড করার আগে জ্যেষ্ঠ এই পাকিস্তানি সাংবাদিক ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬। ফাইল ছবি।

পাকিস্তানের বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একজন আরশাদ শরীফকে কেনিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এটিকে “ভুলক্রমে হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা” বলে জানিয়েছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশটির পুলিশ এবং তার আত্মীয়রা সোমবার এ সংবাদ নিশ্চিত করেছে।

নিহত সাংবাদিক আরশাদ শরীফ (৫০) মৃত্যুর হুমকি এবং বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার বরাত দিয়ে আগস্ট মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যান। দেশ ছাড়ার আগে শরীফ পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজে বছরের পর বছর ধরে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক টক শো “পাওয়ার প্লে”র উপস্থাপনা করতেন।

সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো তার মৃত্যুকে “বিস্ময়কর এবং গোলমেলে” বলে অভিহিত করেছে। কেনিয়ায় ঘটা মারাত্মক এই ঘটনাকে ঘিরে পরিস্থিতির দ্রুত তদন্ত করার জন্য পাকিস্তানের সরকারকে অনুরোধ করেছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী শরীফ টুইটারে বলেছেন, তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য সমবেদনা ও প্রার্থনা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক শরীফকে পাকিস্তানি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার খুব ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হতো। তিনি প্রায়শই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের জোট সরকারের অংশগুলোর কথিত দুর্নীতির ওপর আলোকপাত করে বিশেষ তথ্য সম্প্রচার করতেন। তিনি প্রায়শই সন্ত্রাসবাদ অভিযান নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের সমালোচনা করতেন।

সমালোচকরা প্রায়ই নিহত সাংবাদিককে ইমরান খানের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে অভিহিত করে থাকেন। ইমরান খান কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শরীফ এবং সামরিক বাহিনীকে তার সরকার পতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগসাজশ করার জন্য দায়ী করেন।

ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তানের সরকার এবং সামরিক বাহিনী সম্প্রতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ভিন্নতাকে রুদ্ধ করার অভিযোগে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়েছে। কর্মকর্তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।