মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কাছে জেট ফুয়েল বিক্রি যুদ্ধাপরাধে সাহায্য করেঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আইয়ারওয়াদি ব-দ্বীপ অঞ্চলে মহড়ার সময় মিয়ানমারের ফাইটার জেট বোমাবর্ষণ করে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মিয়ানমারে শেভরন, পেট্রোচায়না এবং অন্যান্য তেল সংস্থাগুলি বেসামরিক ব্যবহারের জন্য জেট জ্বালানী প্রেরণ করেছে। যে জ্বালানি অনিচ্ছাকৃত ভাবে হলেও তাদের বিমানবাহিনীর হাতে যাবার সম্ভাবনা আছে। তাই এই সরবরাহ বন্ধ করা উচিৎ বলে তারা দাবি করেন।

‘ডেডলি কার্গো’ রিপোর্টে সাপ্লাই জেট এ-১ জ্বালানীর আটটি চালান পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে - যা ব্যাপকভাবে বিমান চালনায় ব্যবহৃত হয় এবং তা মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধে ইন্ধন জোগাতে সাহায্য করে। ফেব্রুয়ারী ২০২১-এ এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দেশে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয় এবং একটি রক্তাক্ত সংঘাত শুরু হয় যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

ফাঁস হওয়া কোম্পানির রেকর্ড, স্যাটেলাইট ডেটা এবং সামরিক সুত্রগুলোর সাক্ষাত্কারের উপর ভিত্তি করে, অ্যামনেস্টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে "অঙ্গাঙ্গিভাবে সংযুক্ত" বেসামরিক ও সামরিক জ্বালানী সরবরাহ চেইনের সন্ধান পায় যা পরিস্কার ইংগিত দেয় যে এই জ্বালানি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্যই ছিল না।

রিপোর্টের প্রধান লেখক মন্টসে ফেরের, ভয়েস অফ আমেরিকাকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অনেক শিল্প এবং এই শিল্পের সাথে জড়িত কোম্পানি এবং সংস্থাগুলির একে অপরের উপর দখল থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ” এ-১ এর কোনো চালান অবতরণের পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ওই জ্বালানির

অপব্যবহার বা ব্যবহার করার ঝুঁকি অনেক বেশি । এ কারণে সমস্ত সংস্থার সরবরাহ বন্ধ করা উচিত।”

গত ২৩ অক্টোবর সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হওয়ার পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান হামলা। জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক মাস আগে একটি স্কুলে সামরিক বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে আরও ১১ শিশু নিহত হয়।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ তার নিজস্ব কয়েকটি প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে এই জান্তা সরকারকেকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক কিয়াও উইন বলেছেন, জান্তার আকাশে নিয়ন্ত্রণ মানে মিয়ানমারের কেউই নিরাপদ নয়।

পেট্রোচায়না ছাড়া বাকি সবাই, চালানের বিষয়টি মানবাধিকার গোষ্ঠীটির কাছে নিশ্চিত করেছে, মিয়ানমারে তাদের গ্রাহকরা তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, জ্বালানিটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে।

পেট্রো চায়না ছাড়া কয়েকটি কোম্পানি এরই মধ্যে মিয়ানমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বা জেট ফুয়েল বিক্রি বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।