কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ আহত ২৯ জন

কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ আহত ২৯ জন।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১১ পুলিশ সদস্যসহ ২৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় লাঠিচার্জ ও শর্ট গানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সোমবার (৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে, বিএনপির জেলা কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এছাড়া, একই দিনে, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বিএনপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, ৭ নভেম্বর বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে, বিএনপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এই আয়োজনে যুবদল নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসার পথে স্লোগান দিতে থাকলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে, পুলিশ যুবদল নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয়ে লাঠিচার্জ ও গুলি করে।

বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন যে এ ঘটনায় যুবদলের জেলা শাখার সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুশতাক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, ছাত্রদলের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জোবায়েরসহ ১৮ জন নেতাকর্মী পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পর বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত পুলিশ বিএনপির জেলা কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে। এসময় বিএনপির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, রহুল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়াসহ শীর্ষ নেতারা আটকা পড়েন। পুলিশ চলে যাওয়ার পর নেতারা বেড়িয়ে যান।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ জানান, “যুবদলের মিছিল থেকে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় আমি নিজে তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আরও বেপরোয়া হয়ে আমাদের প্রতি চেয়ার ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে লাঠিচার্জ ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন হোসাইন জানান যে বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বিএনপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সোমবার দুপুরের দিকে পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীরা কেসি কলেজ থেকে 'মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস' পালনের জন্য মিছিল বের করে। অপরদিকে, বিএনপি কর্মীরা 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' পালনে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে।

দুই পক্ষের মিছিল পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় পৌঁছালে, তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং তারা একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

ছাত্রলীগ কর্মীরা পিছু হটে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে অবস্থান নিলে, ঐ এলাকায় এক যুবলীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় বিএনপি কর্মীরা।

পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আশফাক মাহমুদ জন দাবি করেন যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল বের করলে, বিএনপি কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়।

বিএনপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রথমে হামলা করেছে।

এএসপি আবুল বাশার জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।