বরিশালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে, বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শিক্ষার্থীরা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে, তাকে অবরুদ্ধ করে। এর পর, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে বরিশাল-ঢাকা মহাড়কে এসে অবস্থান নেয়। মহাসড়কে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করার পর, পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রহমতপুর সেতু এলাকায় সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সিয়াম সরদার জানান, “অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শ্রেণিকক্ষে বিনা কারণে শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করেন, ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করেন, কল্যাণ তহবিলের নামে অর্থ নিলেও তা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার কাজে ব্যবহার করেন না। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের বিনা কারণে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এ সব কারণে তার অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করা হচ্ছে।”

শিক্ষার্থী শচীন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বদলি, নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া, কলেজের ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করা, অতিরিক্ত ভর্তি বন্ধ করা, ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও শিক্ষার্থীদের বদলি করাসহ নানা হুমকি দেওয়ার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।”

শিক্ষার্থীরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কথা না বললে তারা পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তিনিসহ ৮/১০ জন অবরুদ্ধ রয়েছেন। ইউএনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। শিক্ষার্থীরা আগে কিছু না জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, “সামনাসামনি আলোচনা না হলে তো বলতে পারবো না, তারা কি অভিযোগ এনেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসছেন। তাদের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।”

বরিশল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, “মহাসড়কে আর অবস্থান করছে না শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মহাসড়ক ও ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”