বালিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না পুতিন

৩০ অক্টোবর, ২০২২ তারিখে যোগিয়াকার্তার প্রাসাদ নামে পরিচিত ক্রাটনের প্রধান ফটকের পাশ দিয়ে লোকজন হেঁটে যাচ্ছে। ১৪-১৬ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে বালিতে আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনকে স্বাগত জানানোর জন্য এটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৫ নভেম্বর থেকে বালিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের প্রধানের সাথে সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না।

ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও বিনিয়োগ মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র জোডি মাহার্ডি ভিওএকে জানিয়েছেন, মস্কোর প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরফ। তিনি আরও যোগ করেন, পুতিন ‘’একটি বৈঠকে অনলাইনে অংশ নিতে পারেন।’’

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে রাশিয়ান নেতার আমন্ত্রণ বাতিল করতে ,পশিমাদের প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখে আছে আয়োজক দেশটি। এই অবস্থায় পুতিনের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ জাকার্তার জন্য সুবিধাজনক। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো এ ধরনের চাপের বিরোধিতা করেছেন এবং পরিবর্তে সদস্য দেশ না হওয়া সত্বেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভাসিল হামিয়ানিন ভিওএ-কে বলেন, প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি "অবশ্যই" অংশগ্রহণ করবেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে না ভার্চুয়ালি এটি করবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এই সপ্তাহের শুরুতে উইডোডো বলেছিলেন যে তিনি পুতিন এবং জেলেনস্কির সাথে ফোনে কথা বলেছেন। উভয় নেতাই তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, "যদি সব অনুকূলে থাকে " তবে তারা উপস্থিত থাকবেন।

১০-১৩ নভেম্বর আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনেও রাশিয়ার ল্যাভরফ যোগ দেবেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিমিত্রো কুলেবাও সেই বৈঠকে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আসিয়ানের ১০ টি সদস্য দেশেরই রাশিয়ার সাথে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এদের অনেকেই মস্কোকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে , পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আরেকটি বড় শক্তি হিসাবে বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং সহ আসিয়ানের অন্যান্য অংশীদারদের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে এই সমাবেশে যোগ দেবেন। তারা শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সাথে দেখা করবেন। আগামী ১৪ নভেম্বর বালিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

(ভিওএ-র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্যুরো প্রধান নাইকি চিং, আহাদিয়ান উটামা এবং সান নারিন এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছেন)