বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান প্রকল্প-গুলোর মূল্যায়ন এবং যেগুলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে শেষ করা যেতে পারে, সেগুলো শেষ করতে সচিবদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, “অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করতে পারলে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশ দেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবং যুদ্ধের কারণে, উন্নত দেশগুলোও সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।” এই পটভূমিতে তিনি কঠোরতা এবং মিতব্যয়িতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ আগামী পাঁচ-ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশ কোনো সংকটের সম্মুখীন হবে না।” শেখ হাসিনা অবশ্য বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনা করে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে; বিপুল সংখ্যক যুবক এখন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তাদের সম্ভাবনা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য আপলোড করতে বলেন, যাতে সকলে সত্য তথ্য জানতে পারে। তিনি বলেন, “যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, খাদ্য উৎপাদন সহ বিভিন্ন খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের বড় সাফল্যের গল্প রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতিসংঘের এসডিজি এবং ২০২১-২০৪১ পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।”
করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে, দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশ যাতে দুর্ভিক্ষের শিকার না হয় সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সচিবদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে; সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়া, অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি চাষের আওতায় আনার জন্য জনগণকে সচেতন করা, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ীতার অনুশীলন করা।
“বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বহুগুণ বেড়েছে। আমাদের দেশ তার বাইরে নয় এবং এটি আমাদের দেশেও আঘাত করেছে;” বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
অগ্রাধিকার ভিত্তিক চলমান প্রকল্প শেষ করুন: সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা