বাংলাদেশের চাঁদপুরের ৪০ লবন কারখানার ৩৯টি বন্ধ, বেকার শত শত দিনমজুর

বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার পুরানবাজার, ব্রিটিশ আমল থেকেই দেশের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। পাশেই নৌ, সড়ক ও রেলপথ থাকায় এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করেছে। এটি বাংলাদেশের লবণ ব্যবসার অন্যতম মোকাম। এক সময়, লবণ এখানকার শিল্প ছিল শত শত শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করতো। এখানকার নদীর পাড়ে, ৪০টি লবণ কারখানায় প্রতিদিন টনে টনে লবন উৎপাদন হতো। এখন ৩৯টি লবণ কারখানা বন্ধ। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, বেকার হয়ে গেছে শত শত দিনমজুর।

জনতা সল্ট মিলের স্বত্বাধিকারী একে আজাদ জানান,“জেলার প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র পুরানবাজারে শুধু তার কারখানাটি কোন রকমে টিকে আছে। এক সময় ৪০টি কারখানা ছিল।ব্যবসা ছিল জমজমাট। এখন ৩৯ টি কারখানা বন্ধ।”

তিনি বলেন, “ প্রতিযোগিতার বাজারে অনেক কষ্ট হচ্ছে টিকে থাকতে। শতাধিক দিনমজুর এখানে কাজ করছেন। দুই ধরনের লবণ এখানে উৎপাদন হয়। মানুষের জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণ আর গো-খাদ্যের জন্য সাধারণ লবণ।”

দিনমজুর হারুনর রশীদ, বাবুল মিয়া, বশির গাজীসহ অনেকেই জানান, আগে শত শত দিনমজুর ৩৯টি কারখানায় কাজ করতো। কত ব্যস্ত ছিল কারখানা এলাকা। এক লবণ শ্রমিক জানান, বেকার দিনমজুররা এখানে সেখানে কাজ করছেন। কেউ কেউ মারা গেছেন।

লবণ ব্যবসায়ী ও পুরানবাজারে অবস্থিত চাঁদপুর চেম্বার অফ কর্মার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি আলহাজ্ব জাহাংগীর আখন্দ সেলিম বলেন, “পুরানবাজার নদী-ভাঙন প্রবণ এলাকা। এ ছাড়া, কাঁচামালের সংকট, ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়া এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে, চেষ্টা থাকা সত্বেও ব্যবসায়ীরা লবণ ব্যবসায় এগুতে পারেনি। তাছাড়া, এ ব্যবসায় লাভের হার কম। লোকসান হচ্ছিল মাঝে-মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে লবণ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে থাকেন। গত ৮/১০ বছরে লবণ কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে শত শত দিনমজুর।”

“কারখানাগুলো এখন পরিত্যক্ত অথবা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো আদৌ চালু হবে কি না, তা কেউ জানে না। এমনকি আমার নিজের লবণ কারখানাও বন্ধ;” জানান চাঁদপুর চেম্বারের সভাপতি।