বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের অস্বাভাবিক মৃত্যু: এক মাস পরও তদন্তে অগ্রগতি নেই

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কুলকিনারা করতে পারছে না আইনশশৃঙ্খলা রক্খাকারী বাহিনী। এক মাস পার হলেও, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে কোনও অগ্রগতি করতে পারেনি। এ কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত ফারদিন নূর পরশের বাবা কাজী নুরুদ্দিন এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বুয়েট ক্যাম্পাসে এক মানববন্ধনে কাজী নুরুদ্দিন বলেন, “এটি একটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তবে তদন্ত সংস্থা এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। এটা হতাশাজনক যে তদন্তকারী সংস্থা গুলো এক মাস পরেও কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।”

ফারদিন নূর পরশ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধিদের বিচারের দাবিতে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে এবং ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। তদন্তে বিলম্বের জন্য তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমালোচনা করেন। গত ৭ নভেম্বর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সতীর্থ শিক্ষার্থী ও ফারদিনের বাবাও বুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান যে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়ায় তারা এখনও বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেন, “ফারদিন হত্যার এক মাস হয়ে গেছে, এখনো এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি এবং খুনিরা এখনও শনাক্ত হয়নি।” তারা, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানান।

ফারদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর চলতি বছরের ৭ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে একটি কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্তের পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক শেখ ফরহাদ জানিয়েছিলেন যে ফারদিনের মাথায় ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঐ দিনই ফারদিনের বাবা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।