রোহিঙ্গারা এখনো গণহত্যার শিকার, বলছেন একটি রোহিঙ্গা সংস্থার প্রধান

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ইন্দোনেশিয়ার উত্তর আচেহ-র একটি অস্থায়ী শরণার্থী কেন্দ্রে বসে আছে। ১৫ নভেম্বর, ২০২২।

একটি রোহিঙ্গা সংস্থার প্রধান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরিভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা প্রতিরোধ করার আহবান জানিয়েছেন।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (বিআরওইউকে)-র সভাপতি তুন খিন ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে যা তাদের অস্তিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এ বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এর প্রমাণগুলো ২০১৬-১৭ সালের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তির দিকে ইঙ্গিত করে। সে সময় লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশক ধরে রাখাইন রাজ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এবং কামান মুসলিমকে নির্বিচারে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়েছে।

প্রায় তিন বছর আগে আদালতের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়কালের ১ সপ্তাহ পরে ২ ডিসেম্বর বিআরওইউকে “প্রিভেন্ট দ্যা আনথিংকেবল” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মিয়ানমারকে তাদের ভূখণ্ডে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা প্রতিরোধে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

এই আদেশের অধীনে, আদালত কর্তৃক মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারকে প্রতি ৬ মাসে তাদের গৃহীত সমস্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে আইসিজে-তে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা।

আইসিজে-র টাইমলাইন অনুসারে, মিয়ানমার জান্তার সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদনটি ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে আইসিজে বা জান্তা কেউই এই প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছু ঘোষণা করেনি।

মন্তব্য জানতে চেয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার অনুররোধের সাড়া দেয়নি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।