আফগান জনসাধারণের মৃত্যুদণ্ড, বেত্রাঘাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের নিন্দা করেছে তালিবান

পারওয়ান প্রদেশের চারিকর শহরের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে নারী ও পুরুষদের প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের আগে তালিবান নিরাপত্তা কর্মীরা জায়গাটিতে পাহারায় রয়েছে। ৮ ডিসেম্বর, ২০২২।

আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী তালিবান সরকার বৃহস্পতিবার তার প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড এবং শরিয়া বা ইসলামিক আইনের প্রয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদকে "নিন্দনীয়" এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে "হস্তক্ষেপ" বলে অভিহিত করেছে।

তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই ধরণের সমালোচনা "দুর্ভাগ্যবশত" ইসলামের পাশাপাশি আফগানিস্তান সম্পর্কে বোঝার এবং গবেষণার অভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন আফগানিস্তানে ৯৯ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা মুসলিম।

মুজাহিদ বলেন, "তারা দেশে ইসলামী আইন ও ব্যবস্থার প্রয়োগের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে।”

গত বছর ক্ষমতা দখলের পর থেকে এই প্রথম বুধবার, কট্টরপন্থী তালিবান প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষাকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই মৃত্যুদণ্ডকে ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

পশ্চিম ফারাহ প্রদেশের একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যেখানে শীর্ষ তালিবান নেতারা শত শত দর্শকের মধ্যে ছিলেন। কর্মকর্তারা বলেছেন যে এই শাস্তি, দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পিতার দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, যা "কিসাস" এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল, এটি একটি ইসলামিক আইন। এই আইনে ভুক্তভোগীকে যেভাবে হত্যা করা হয়, অপরাধীকেও একইভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার এই পদক্ষেপকে "নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি" এবং "আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুরক্ষিত জীবনের অধিকারের পরিপন্থী" বলে নিন্দা করেছে।

মুজাহিদ প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড বাস্তবায়নের পক্ষে বলেন, মৃত্যুদণ্ড "সারা বিশ্বে, এমনকি আমেরিকা ও ইউরোপেও দেওয়া হয়।"

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, তালিবান কর্তৃপক্ষ রাজধানী কাবুল সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জনাকীর্ণ ফুটবল স্টেডিয়ামে কয়েক ডজন পুরুষ ও নারীকে চুরি, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, অবৈধ সম্পর্ক এর মতো অপরাধ করার অভিযোগে বেত্রাঘাত করেছে।"

বৃহস্পতিবার, তালিবান সুপ্রিম কোর্ট আফগানিস্তানের রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে পারওয়ান প্রদেশে নয়জন নারীসহ আরও ২৭ জন দোষীকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘কোনো বলপ্রয়োগ ছাড়াই অপরাধীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস ওয়াশিংটনে সাংবাদদাতাদের বলেছেন যে কর্মকর্তারা আফগানদের প্রতি তালিবানের আচরণ এবং তাদের শরিয়ার কঠোর ব্যাখ্যার উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর আগের শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটি আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে তালিবান তাদের ১৯৯০ এর দশকের পশ্চাদপসরণমূলক এবং অপমানজনক অনুশীলনে ফিরে যেতে চায়।"