বেলারুশ, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীরা শনিবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে, আরও ন্যায্য একটি বিশ্বের বিষয়ে তাদের দর্শনটি তুলে ধরেন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধটির প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
ইউক্রেনের সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিস এর ওলেকসান্ড্রা মাতভিচুক, এমন রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান নাকচ করে দেন, যেটি কিনা রাশিয়াকে অবৈধভাবে অধিভুক্ত করা ইউক্রেনের ভূখণ্ডের কিছু অংশ রেখে দেওয়ার সুযোগ করে দিবে। তিনি বলেন যে, “শান্তির জন্য লড়াইয়ের অর্থ আগ্রাসীর চাপে মাথানত করা নয়, বরং তার অর্থ হল মানুষজনকে সেটির নিষ্ঠুরতা থেকে রক্ষা করা।”
আবেগে কাঁপতে থাকা কন্ঠে তিনি বলেন, “আক্রমণের শিকার কোন দেশের অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। সেটি শান্তি হবে না, বরং দখলদারিত্ব হবে।”
পুতিন এবং বেলারুশের স্বৈরতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো-কে একটি আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করানোর তার দাবিটি, মাতভিচুক আবারও তুলে ধরেন। ইউক্রেন আক্রমণে রুশ সৈন্যদেরকে বেলারুশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন লুকাশেঙ্কো।
মাতভিচুক বলেন, “আমাদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে, আইনের শাসন কাজ করে, এবং ন্যায়বিচার রয়েছে, সেটা যদি বিলম্বিত হয় তবুও।”
মাতভিচুককে অক্টোবরে, মেমোরিয়াল নামক রাশিয়ার মানবাধিকার গোষ্ঠীটি এবং আলেস বিয়ালিয়াতস্কি এর সাথে ২০২২ শান্তি পুরস্কারের সহবিজেতা ঘোষণা করা হয়। আলেস বিয়ালিয়াতস্কি হলেন ভিয়াসনা নামক বেলারুশের একটি অধিকার সংস্থার প্রধান। শনিবার দিনের শেষদিকে স্টকহোমে এক আয়োজনে, অন্যান্য নোবেল পুরস্কারগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলোর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিয়ালিয়াতস্কি তার বিচারের অপেক্ষায় বেলারুশের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার ১২ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। তাকে তার ভাষণটি প্রেরণ করতে দেওয়া হয়নি। কারাগারে তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে, তিনি তার কিছু ভাবনার কথা তার স্ত্রী নাটালিয়া পিনচুক-কে জানান। বিয়ালিয়াতস্কির পক্ষে তার স্ত্রী পিনচুক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন।
তার স্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যটির মাধ্যমে বিয়ালিয়াতস্কি বলেন যে, লুকাশেঙ্কো পুতিনের একটি পুতুল। তিনি বলেন যে, পুতিন সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলগুলোতে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
মেমোরিয়ালের জ্যান রাশিনস্কি তার বক্তব্যে বলেন যে, “রাশিয়ায় বর্তমানে সুশীল সমাজের করুণ দশা সেটির অমীমাংসিত অতীতের সরাসরি ফল।”
ইউক্রেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য সাবেক দেশগুলোর ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে হেয় করার ক্রেমলিনের প্রচেষ্টাগুলোর প্রতি রাশিনস্কি বিশেষভাবে নিন্দা জানান। তিনি বলেন যে, সেটিই “ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উন্মত্ত ও অপরাধমূলক এই আগ্রাসী যুদ্ধের জন্য আদর্শিক যুক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে”।