স্থিতিশীল পণ্য-সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঋণপত্র সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকার কারওয়ান বাজারের সবজি বাজারের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি নারী। (ফাইল ছবি)

রমজানে স্থিতিশীল পন্য-সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, পণ্য আমদানির জন্য ন্যূনতম নিশ্চয়তায় ঋণপত্র বা লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)। রবিবার (১১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

রমজান মাসে ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মশলা, চিনি ও খেজুরের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্রের বিপরীতে পরিশোধ করা নগদ-হার সংরক্ষিত থাকবে।

সম্প্রতি বাণিজ্য সংস্থা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করে। বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা সহজের্ ঋণপত্র খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আমদানি ঠেকাতে, ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া, ঋণপত্রে উল্লেখ করা পণ্যের মূল্য এবং তা নির্ধারিত সময়ে দেশে আসছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা যায়, আমদানির নামে কিছু ব্যবসায়ী অর্থ পাচার করেছে।

অভিযোগ আছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মাসে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করেছেন। ফলস্বরূপ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওভার-ইনভয়েসিং এবং আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে ঋণপত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।