রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার বলেছেন, এই বছরের শুরুতে ইউক্রেনের যে চারটি অংশের অধিগ্রহণের দাবি করেছিলেন, সেখানকার পরিস্থিতি "অত্যন্ত কঠিন।“
রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণে খেরসন ও জাপোরিজহিয়া এলাকার কথা তুলে ধরেন।
"সেখানে বসবাসকারী মানুষ, রাশিয়ার নাগরিকরা, আপনাদের উপর এবং আপনাদের সুরক্ষার উপর নির্ভর করে," বলেন পুতিন।
পুতিনের সেপ্টেম্বরে অধিগ্রহণের যে দাবি করেছিল সেই চারটি এলাকার কোনোটিই রাশিয়া কখনোই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
পুতিন মঙ্গলবার রাশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবিকে দেশের সীমান্তে এবং দেশের অভ্যন্তরে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিদেশ ও দেশের বিশ্বাসঘাতকদের কাছ থেকে আসা নতুন হুমকি মোকাবেলা করা যায়।
ইউক্রেনের যৌথ বাহিনীর কমান্ডার সের্হি নায়েভ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে বেলারুশে তার সমকক্ষের পুতিনের সংগে বৈঠকে, “ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসন এবং এই অভিযানের স্বপক্ষে বেলারুশের সশস্ত্র বাহিনীর আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়া, বিশেষত, আমাদের মতে, স্থলভাগের যুদ্ধে অংশ নেওয়া নিয়ে' আলোচনা হবে।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো বারবার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে আগ্রাসনের জন্য রুশ সেনাদের তার দেশ থেকে আক্রমণ চালাতে দেওয়ার পর ইউক্রেনে তার দেশের সেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।
সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন ,"কাউকে শোষণ করার ব্যাপারে রাশিয়ার কোনো আগ্রহ নেই।"
এই মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন যে এটি " “বড় রকমের পরিহাস” হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এটি "এমন একজন নেতার কাছ থেকে আসছে যিনি এই মুহূর্তে তার পাশের শান্ত প্রতিবেশীকে হিংস্রভাবে শোষণ করার চেষ্টা করছেন।
পুতিন বেলারুশকে এই সংঘাতে আরও সক্রিয় ভূমিকার পরামর্শ দিয়েছেন, এই অভিযোগ ক্রেমলিন প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দ্যমিত্রি পেসকভকে উদ্ধৃত করে আরআইএ নভোস্তি বার্তা সংস্থা বলেছে, এ ধরনের প্রতিবেদন “ভিত্তিহীন” এবং “বোকামি।”
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া।