বড়দিন ঘিরে সাজেকে পর্যটকের বাড়তি চাপ, রিসোর্টের বারান্দায় ও সড়কে রাত্রিযাপন

বড়দিন ঘিরে সাজেকে পর্যটকের বাড়তি চাপ, রিসোর্টের বারান্দায় ও সড়কে রাত্রিযাপন

বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় মেঘের রাজ্য। টানা তিন দিনের ছুটি এবং বড়দিনকে ঘিরে পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সাজেক ভ্যালি। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করায়, কটেজ-রিসোর্টগুলোতে রুম সংকট দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে গত শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেককে রাত কাটাতে হয়েছে রিসোর্টের বারান্দায় এবং সড়কে।

সাজেকে বছর জুড়েই থাকে পর্যটকের চাপ। ছুটির দিনগুলোতে সেই চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এবার সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিনের টানা ছুটি থাকায় এবং কোভিড-১৯ মহামারীরর ভয় কাটিয়ে উঠায়, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের চাপ আরও বেড়ে যায়। এ কারণেই এমন আবাসন সংকট। আর, বাধ্য হয়েই অনেক পর্যটক রাত কাটিয়েছেন গাড়িতে, উপাসনালয়ে অথবা স্থানীয় ক্লাবে।

ঢাকা থেকে আসা শাহ আলি (৩০), ময়মনসিংহ থেকে স্বপরিবারে আসা সুলতান মিয়া (২৮) ও নেত্রকোনার পর্যটক আশরাফ আলি জানান, ছেলে-মেয়েরা ছুটি পেয়েছেন তাই সাজেক ভ্যালিতে এসেছেন। এসে দেখেন কোনো হোটেলে রুম খালি নেই। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

সাজেকের নীল পাহাড়ি রিসোর্ট ও মর্নিং স্টার রিসোর্টের মালিক আলফার্ড লুসাই জানান, “বড়দিনকে সামনে রেখে প্রায় একমাস আগে রুম বুক হয়েছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) অনেক পর্যটক পথে পথে ঘুরেও রিসোর্টে রুম পাচ্ছেন না; এটা সত্যি কষ্টের।”

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, শনিবার প্রায় সাত হাজারের মতো পর্যটক সাজেকে এসেছেন। সাজেকের ১১২টি কটেজে পর্যটক থাকতে পারেন চার হাজারের মতো।

সাজেকে আসা পর্যটকদের অনেকেরই আগাম বুকিং ছিল না। ফলে রুম পাননি। তাদের মধ্যে অনেক পর্যটক বিকেলে ফিরে যান। যারা থেকে গিয়েছেন, তাদের অনেকেই বিভিন্ন কটেজের বারান্দায় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে রুম ভাড়া নিয়ে রাত পার করেছেন।

সাজেকের হিল রিসোর্টের ম্যানেজার সুব্রত চাকমা বলেন, “বুধবার থেকেই সাজেকে পর্যটক আসছেন। এই মুহূর্তে কোনো রিসোর্টেই রুম খালি নাই। আমাদের রিসোর্টও দুই মাস আগে থেকেই শতভাগ বুকিং হয়ে আছে রোববার পর্যন্ত।”

রুম না পেয়ে অনেক পর্যটক ড়িতে রাত কাটিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “যখন পর্যটকদের চাপ থাকে, তখন যারা আগাম বুকিং না দিয়ে সাজেক আসেন, তাদের রুম পেতে বেগ পেতে হয়। তখন তাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে বা গাড়িতে থাকতে হয়।”

সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টের মালিক ইন্দ্রজিৎ চাকমা বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি পর্যটক এসেছেন। সবগুলো কটেজ মিলিয়েও তাদের আবাসন ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।” অগ্রিম রুম বুকিং না করে সাজেক না আসার পরামর্শ দেন তিনি।