রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী নিখোঁজ নৌকার যাত্রীদের আত্মীয়রা এখনও আশা ছাড়েননি

মা আয়েশা খাতুন এর সাথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় চড়ার একদিন আগে, ১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে নুর ফাতেমা (৫) ও উম্মে মাহ (৩) এর বাংলাদেশে তোলা একটি ছবি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটি রবিবার এক বিবৃতিতে জানায় যে, এই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ থেকে ১৮০ জন রোহিঙ্গা নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি নৌকা ডুবে গিয়েছে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার যখন ১৭৪ জন রোহিঙ্গা নিয়ে একটি নৌকা ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে এসে পৌছায় তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, তারাই সেই শরণার্থী যাদের ডুবে যাওয়া সম্পর্কে জাতিসংঘের সংস্থাটি ধারণা করছিল।

তবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী কিছু রোহিঙ্গা, যারা কিনা সোমবার উদ্ধারকৃত শরণার্থীদের সাথে কথা বলেছেন, তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই ১৭৪ জন, নিখোঁজ ও নিহত বলে শঙ্কা করা ঐ ১৮০ জন শরণার্থীর সাথে সম্পর্কিত না।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা বেশ কয়েকজন শুক্রবার ভিওএ-কে বলেন যে, ২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় করে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া তাদের আত্মীয়রা সমুদ্রে নিখোঁজ হয়েছেন এবং যে, নৌকাটিতে প্রায় ১৮০ জনের মত ছিল।

কক্সবাজারে অবস্থিত এক রোহিঙ্গা সক্রিয়কর্মী, মোহাম্মদ রেজোয়ান খান মঙ্গলবার ভিওএ-কে বলেন যে তিনি ফোনে তার বোনের সাথে কথা বলেছেন, যিনি সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় উদ্ধারকৃত ঐ ১৭৪ শরণার্থীর একজন, এবং যাচাই করে নিশ্চিত করেছেন যে, ২ ডিসেম্বর ১৮০ জন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া ঐ নৌকাটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ ঐ নৌকায় থাকা মানুষজনের আত্মীয়রা বলেন যে, ৮ ডিসেম্বর তাদের সাথে নৌকাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ঐ যাত্রীরা এখনও বেঁচে আছেন বলে তারা আর আশা করতে পারছেন না।

তবে, কিছু রোহিঙ্গা জোর দিয়ে বলছেন যে, নিখোঁজ ঐ নৌকার সব যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার মত সময় এখনও আসেনি।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের এক নেতা, মোহাম্মদ হুসেইন মঙ্গলবার ভিওএ-কে বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভেসে আসা নৌকাটির বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া পৌঁছাতে ৩১ দিন সময় লেগেছে। নিখোঁজ নৌকাটি ২৫ দিন আগে বাংলাদেশ ছেড়েছে। আমাদের আরও কিছুদিন বা সপ্তাহ অপেক্ষা করা উচিৎ এটি নিশ্চিত হওয়ার আগে যে তারা আর [বেঁচে] নেই।”

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত রফিক বলেন, “আমিও এখনও বিশ্বাস করি না যে, আমার কন্যা ও স্ত্রী মারা গিয়েছে। আল্লাহ যদি চান, তাহলে তিনি এখনও আমার সন্তান ও স্ত্রীকে আমার কাছে অলৌকিকভাবে ফিরিয়ে দিতে পারেন।”