মির্জা ফখরুল ও আব্বাসকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের আপিল শুনানি ৮ জানুয়ারি

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে জামিন দেওয়ার হাইকোর্টের আদেশকে বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৮ জানুয়ারি (রবিবার) তারিখ ধার্য করেছেন চেম্বার আদালত।

এই সময় পর্যন্ত তাদের দুজনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিল না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

বিএনপির দুই নেতার আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদনের শুনানি হলে তাদের জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার (৮ জানুয়ারি) জানা যাবে’।

এর আগে এ মামলায় বিএনপির দুই নেতার জামিনের হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনির বলেন, আজ সকালে সরকার সংশ্লিষ্ট আপিল বিভাগের বেঞ্চে আবেদনটি করেন।

এর আগে মঙ্গলবার এ মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিএনপির এই দুই নেতাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আসাদুজ্জামান চতুর্থবারের মতো বিএনপি নেতাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

গত ৯ ডিসেম্বর রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।

পরে রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার একটি আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালত ফখরুল ও আব্বাসসহ বিএনপির ২২৪ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

গত ১৫ ডিসেম্বর আবারও বিএনপির এই দুই নেতার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়।

ঢাকার একটি আদালত ৯ ডিসেম্বর তাদের ডিভিশন সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং এরপর ১৩ ডিসেম্বর থেকে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার প্ররোচনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গেল বছরের ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের আগে ৭ ডিসেম্বর দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন।

বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রমনা, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও পল্টন থানায় ৭২০ বিএনপি নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতপরিচয় ২ হাজার ৪০০ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে পুলিশ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে নয়াপল্টন থানায় করা মামলায় ৪৫০ জন, মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় ২০ জন এবং শাহজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলায় সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।