মিয়ানমারের জান্তা সরকার ৭,০১২ জন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে

ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের তাদের সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা ইয়াঙ্গুনে স্বাগত জানায়, ৪ জানুয়ারী ২০২৩।

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা বুধবার ব্রিটেনের কাছ থেকে দেশটির স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে যে ৭,০১২ জন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হটিন লিন, অং সান সু চি সরকারের সাবেক কর্মকর্তা। তার জন্য এই মুক্তি কিছুটা অম্লমধুর।“

ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে টেলিফোনে ভয়েস অফ আমেরিকাকে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির সাবেক কর্মকর্তা বলেন, "কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে আমার কোনও অনুভূতি নেই, তবে আমি লজ্জিত। আমার সাথে কারারুদ্ধ অনেকেই কারাগারের সেলে রয়ে গেছে।"

জান্তা সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন ভয়েস অফ বার্মিজকে বলেন, ক্ষমার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের চেয়ে কম অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কিছু বন্দীর সাজা কমানো হচ্ছে।

জাও মিন তুন বলেন, "হত্যা, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, বিস্ফোরক ব্যবহার, দুর্নীতি, বেআইনী সমিতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন এবং ধর্ষণ সম্পর্কিত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের শাস্তির পরিমাণ এক-ষষ্ঠাংশ পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।“

হটিন লিন ওও ছাড়াও কিছু রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত নয়।

৫৬ বছর বয়সী হটিন লিন ওওকে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারী সু চি প্রশাসনকে উৎখাত করতে অভ্যুত্থানের দিন তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি নতুন আইনের অধীনে তাকে শ্রমসহ তিন বছরের কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয। এই আইন ভয় সৃষ্টি, মিথ্যা সংবাদ প্রচার এবং সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে আন্দোলনমূলক অপরাধ নিষিদ্ধ করে।

হটিন লিন ওও ভিওএকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি দেশের আইনী ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যা তার গ্রেপ্তারের পরে কার্যকর করা হয়েছিল । তিনি বলেন, "কারাগারে একটি রুদ্ধদ্বার বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা সম্পূর্ণ অন্যায় ছিল। সেখানে কোনো জুরি ছিল না, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনো অধিকার ছিল না।”

আরেক জন সুপরিচিত লেখক ও এনএলডি সদস্য থান মিন্ট অং সু চি সরকারে ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক জেনারেল থুরা অং কোকেও মঙ্গলবার রাতে ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সু চি বা উইন মিন্টকে এই ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ব্লিংকেন সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, অন্যায়ভাবে আটককৃতদের মুক্তি দিতে হবে, বাধাহীন মানবিক প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং একটি প্রকৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।"