বন্যা-বিধ্বস্ত পাকিস্তানের পুনর্গঠনে বিশ্বব্যাপী সংহতির জন্য জাতিসংঘের আবেদন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জাফরাবাদ জেলায় বন্যার পানিতে তাদের কুঁড়েঘর ধ্বংস হওয়ার পরে গ্রামবাসীরা তাদের জিনিসপত্রের সন্ধান করছে। ২২ আগস্ট, ২০২২।

জাতিসংঘ এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে জেনেভায় জলবায়ু সহনশীল পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে বন্যা-বিধ্বস্ত পাকিস্তানের পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাপী সংহতির আবেদন করছেন।

সোমবার সহ-আয়োজক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

সম্মেলনের লক্ষ্য পাকিস্তানের জনগণ এবং সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদান যাতে গত বছরের বিধ্বংসী বন্যার পর দেশটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

জুন এবং আগস্টের মধ্যে পাকিস্তানের রেকর্ড ভাঙা মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে বিপর্যয়কর বন্যা হয়েছে, যা ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৭০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল, ২০ লক্ষেরও বেশি গৃহহীন হয়েছিল, ফসল নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পাকিস্তানে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি নুট অস্টবি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে জলবায়ু বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বন্যা সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং সেভাবেই এর সমাধান করতে হবে।

ওস্টবি বলেছেন, "এই সম্মেলনের অনন্য বিষয় হল যে এটি দুর্যোগে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়ার জন্য সমর্থন জোগাড় করছে। অনেক সম্মেলন আছে যারা এটা করে। … তবে এটি এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্ব বুঝতে পারছে যে এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটিকে বৈশ্বিক সংহতির মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।”

পাকিস্তানের জলবায়ু মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে অস্টবি বলেন, পাকিস্তানে যা হয় তা পাকিস্তানে থাকে না। তিনি বলেন, সমাধান নির্ধারণে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে।

সৈয়দ হায়দার শাহ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের জাতিসংঘ বিভাগের প্রধান। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পুনর্গঠনের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩০ কোটি ডলার । তিনি বলেন, এই অর্থের অর্ধেক আসবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও উন্নয়ন বাজেট থেকে এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে।

তিনি উল্লেখ করেন যে পাকিস্তানের চারটি কৌশলগত পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে রয়েছে শাসন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনর্গঠন, লিঙ্গ সমস্যা এবং জীবিকা।