করোনার কারণে দুই বছর বিরতির পর শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে, টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা (বিশ্ব জামাত) এর ৫৬তম পর্বে, ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানি মাওলানা জিয়াউল হকের আম বয়ান (সাধারণ আলোচনা) দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।
ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, চাদ, তাজিকিস্তান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র সহ দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত, কোরআনের তেলাওয়াত ও ব্যাখ্যা শোনার জন্য তুরাগের তীরে ভিড় করেন। শুক্রবার ইজতেমা মাঠে, তাবলিগ জামাতের একাংশের নেতা মাওলানা হাফেজ জোবায়ের আহমদের নেতৃত্বে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, “মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ইজতেমা স্থান ও আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।”
সরকারের পক্ষ থেকে বিগত বছরের মতো, মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে, বার্ধক্যজনিত কারণ শুক্রবার ইজতেমা স্থলে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৫ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। ১৯৬৭ সাল থেকে তাবলিগ জামাত এখানে জামাতের আয়োজন করছে। ২০১১ সালে জন সমাগম ব্যবস্থাপনা সহজতর করতে ইজতেমাকে দুই পর্ব-এ ভাগ করা হয়। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।