সুনামগঞ্জে বালু দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ

বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে মাটির পরিবর্তে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু দিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। সোমবার (৬ ফেব্রয়ারি) ঘটনাস্থলে গিয়ে গেছে, মাটিয়ান হাওর উপ-প্রকল্প নামের ৭৫ নং পিআইসি'র ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে মাটির পরিবর্তে, নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়াও ৭৬ ও ৭৭নং পিআইসির বাঁধেও বালু দিয়েই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট পিআইসি কমিটির লোকজন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী বালু দিয়ে বাঁধ মেরামতের নিয়ম নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে তাহিরপুর উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ১১২টি প্রকল্পের মধ্যে ৮৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে পাউবো'র অধীনে থাকা মাটিয়ান হাওরের ৭৫নং পিআইসির বাঁধটি মেরামতের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “যেভাবে বাঁধের কাজ করানো হচ্ছে, তাতে ভারি বৃষ্টিপাত হলে এক মাসও বাঁধ টিকবে না।মাটির পরিবর্তে এভাবে বালু ফেলে বাঁধ মেরামত কাজ করা হলে, চৈত্র মাসের প্রথম দিকেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোরে আগাম ফসলহানীর আশঙ্কা রয়েছে।”

হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেন, “৭৫নং পিআইসির বাঁধটি শুরু থেকেই বালু দিয়ে মেরামত না করার জন্য আমরা বলেছি। কিন্তু বাঁধের দায়িত্বশীলরা অনুমিত নিয়েই নাকি বাঁধের কাজ করছেন বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন।” এছাড়া, নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে সহজে বালু দিয়ে বাঁধের নামে সরকারের টাকা অপচয়-অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিয্গে করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে ৭৫নং পিআইসির সভাপতি মলাই মিয়া বলেন, “পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী শওকত উজ্জমানের অনুমতি নিয়েই বালু দিয়ে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে। আমাদের মতে, মাটির চেয়ে বালু দিয়ে বাঁধের কাজ খুবই টেকসই হবে। ড্রেজারের বালু শক্ত ভাবে মাটিতে বসে যায়।”

এ বিষয়ে পাউবো'র উপসহকারী প্রকৌশলী শওকত উজ্জমান বলেন, “৭৫নং পিআইসির কাজ নদীতে থাকা পানির লেভেল পর্যন্ত ড্রেজার দিয়ে করার কথা। সম্পূর্ণ বাঁধ বালু দিয়ে করতে বলা হয়নি। এছাড়াও যেসব বাঁধ বালু দিয়ে করার অভিযোগ পেয়েছি সেই সব বাঁধে পরিদর্শনে যাচ্ছি।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য রমেন্দ্র নারায়ন বৈশাখ বলেন, “বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কোন বিধান নেই। বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি কেউ বালু দিয়ে বাঁধের কাজ করে থাকে, তাহলে অনিয়ম করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, “বালু দিয়ে বাঁধ মেরামত করা যাবেনা, ৭৫ নং পিআইসি ড্রেজার দিয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট পিআইসির সভাপতিকে ড্রেজার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি।”