বসন্ত এলেই ফুলে ফুলে ভরে ওঠে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের শিমুল বাগান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান। এ সৌন্দর্য দেখতে ফাগুনের শুরু থেকেই আসেন শত শত দর্শনার্থীরা। পঞ্জিকার পাতায় এখনো শীতের কয়েকটা দিন বাকী। এর মধ্যেই প্রকৃতি গাইছে অন্য সুরে। শিমুল বাগানে এখন লাল রঙে ফুলের সমারোহ। এ যেন আগাম বসন্ত।
মাঘের শেষ দিকে ও ফাল্গুনের শুরুর দিকে ফুটতে থাকে শিমুল ফুল। লাল হয়ে আছে বাগান। যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই গাঢ় লালিমার বিস্তার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শিমুল বাগান ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি পর্যটকদেরও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বাঙালি প্রবাসীরা এই শিমুল বাগান দেখে মুগ্ধ। বসন্তে দেশে আসলেই ঘুরতে যান শিমুল বাগানে।
সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, মাঝে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ যাদুকাটা নদী আর এপারে শিমুল বাগান। সব মিলে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও এ ২০০০ সালে ১০০ বিঘা জমির মধ্যে তিন হাজার শিমুল গাছ লাগিয়ে এ বাগানটি গড়ে তুলেন বাধাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। বর্তমানে তার ছেলে-মেয়েরা এই বাগান দেখাশুনা করছেন। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লোকের সমাগম হয় বাগানে। জনপ্রতি ২০ টাকার টিকেট কেটে বাগানে প্রবেশ করতে হয়।
নতুন করে আরও এক হাজার ৫০০ চারা রোপণ করা হয়েছে বাগানে। ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও বসন্ত উদযাপনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই শিমুলবাগানে।
ময়মনসিংহের টিপু ফারাজী একজন শিক্ষার্থী। প্রথমবারের মতো বাগান দেখতে এসে, এর সৌন্দর্য্যে বিমোহিত তিনি। টিপু জানান, “আমি এমন সৌন্দর্যে ভরপুর, আর এতো বড় শিমুল বাগান জীবনে দেখিনি। বসন্তের শুরুতে শিমুল বাগানে আসতে পেরে অনেক ভাল লাগছে।”
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম, আবির হাসান ও নৌরিন আক্তার বলেন, “দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকা থেকে এটি ভিন্ন। এখানে ফুল, নদী, পাহাড় ও নীল আকাশ একসঙ্গে দেখা যায়। তাই প্রতিবছর বসন্ত উদযাপন করতে এখানে আসি।”
বাগান মালিক বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন বলেন, “আমরা পর্যটকদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।” তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। বিশেষ বিশেষ দিনে বাগান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়।”