নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে ভারত—পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রার সগে বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ভারতের মাধ্যমে নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ট্রান্সমিশন লাইনের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন। কারণ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং এর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) পর বলেন, ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের মধ্যে তার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হলে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হলে ভারতীয় ক্রেডিট লাইন (এলওসি) ব্যবহার করা যাবে কি না তাও বাংলাদেশ অনুসন্ধান করবে।

এফওসি চলাকালে বিনয় কোয়াত্রা ও মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন।

দুই পক্ষই তাদের চলমান সহযোগিতাকে আরও জোরদার, ভারতের অর্থায়নকৃত রেয়াতি এলওসির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মত হয়েছে।

বিনয় কোয়াত্রা বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে তার সরকারি সফর শেষ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি তার দেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেন।

বিনয় কোয়াত্রা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে দুই পক্ষই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রেক্ষাপটে, ভারত জি-২০-এর ভারতের সভাপতিত্বের সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘অতিথি দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য উন্মুখ।

দুই পক্ষই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের জন্য একে অপরের আসন্ন প্রার্থিতাকে পারস্পরিক সমর্থন প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে গত দশকে, বাংলাদেশ ও ভারত নেতৃত্বের পর্যায়সহ উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছে।

ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সফর দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী অংশীদারিকে আরও জোরদার করতে সাহায্য করেছে। তাদের সময়-পরীক্ষিত সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ দিয়েছে।

এদিকে, নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী রাজেন্দ্র লিংডেন মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি ও পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।