বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ১২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার তহবিল ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সাধারণ খাদ্য সহায়তা ভাউচারের মূল্য প্রতি মাসে ১২ ইউএস ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার করার সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরভিত্তিক আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস(এআরএসপিএইচ)।
তারা বলেছে, “শিবিরে বসবাসকারী শরণার্থী হিসেবে, আমরা প্রথম থেকে জানি যে, প্রতি মাসে ১২ ডলারেও বেঁচে থাকা কতটা কঠিন এবং এই হ্রাস আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর ইতিমধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতির বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে”।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এআরএসপিএইচের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের সই করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, “আমরা কীভাবে প্রতি মাসে ১০ ডলারে বেঁচে থাকব তা বোঝা কঠিন, যখন প্রতি মাসে ১২ ডলার দিয়েও মানুষ চাহিদা পূরণে লড়াই করছে।… খাদ্য সহায়তা হ্রাসের ফলে চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তি, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং মৌলবাদীকরণসহ অনেকগুলো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে”।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের জনগণের হতাশা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে এই কার্যকলাপগুলো আমাদের সম্প্রদায়ের সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদেরকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে”।
সংগঠনটি রেশনের পরিমাণ না কাটা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এটা অগ্রহণযোগ্য যে আমরা, উদ্বাস্তু হিসেবে, অর্থায়নের ঘাটতির বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছি যা আমাদের তৈরি নয়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যে সহায়তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে”।
রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তারা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং অন্য মানবিক সংস্থার কাছে ঘাটতি পূরণের জন্য তহবিলের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, “রোহিঙ্গা সংকটে তাদের অবদান বাড়াতে আমরা দাতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই। আমাদের জীবন এটির ওপর নির্ভর করে এবং আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের দুর্দশা থেকে চোখ না ফেরানোর জন্য অনুরোধ করছি”।