সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৩ ফেব্রয়ারি) রাজধানী ঢাকায়, বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (বিসিআরএফ) আয়োজিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা এখন অনেক বেশি সহজলভ্য এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এখন কার্ডিয়াক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসায় প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশের ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ কার্ডিওভাসকুলার রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা রয়েছে। এখন দক্ষ জনশক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশেই পাওয়া যায়।”

তিনি বলেন, “হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা দেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করায়, মানুষ উপকৃত হচ্ছে এবং এভাবে (দেশের) বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।” শিশু কার্ডিয়াক রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার বাইরের সরকারি হাসপাতালেও এই ধরনের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিশু হৃদরোগের চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি এবং পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের ফলে শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ শয্যার একটি বিশ্বমানের 'ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশে কার্ডিয়াক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হৃদরোগ সংক্রান্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনের ওপর জোর দেন।শেখ হাসিনা বলেন, “খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং অতিরিক্ত ডায়াবেটিসসহ নানা কারণে দেশে দিন দিন হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কার্ডিওভাসকুলার রোগের যত্নের বিকাশের পাশাপাশি আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।”

“হৃদরোগ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে মারা যায়। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ শতাংশ কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে হয়। বর্তমানে দেশে প্রতি হাজারে ১০ জন শিশু কার্ডিওভাসকুলার রোগে ভুগছে। বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন তরুণ হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে;” উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান যে তার সরকার প্রতিটি জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।তিনি বলেন, “মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ২০০৯ সালে ৫০টি থেকে এখন ১১৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া, এমবিবিএস কোর্সের আসন সংখ্যা ২০০৯ সালে ছিলো ২ হাজার ৫০টি, এ্খন এই সংখ্যা ১০ হাজার ৭৮৯টি।”

সরকার প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, “ইতোমধ্যে চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।”