নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ চায় আওয়ামী লীগ: পর্যবেক্ষকদেরকে হাছান মাহমুদ

দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইলেকশন মনিটরিং ফোরামে’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ২৬ ফেব্রয়ারি, ২০২৩।

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বলেছেন, “আমরা চাই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিক এবং জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আগামীর সরকার নির্বাচিত করুক।” তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তা অবশ্যই আমরা করবো।”

রবিবার (২৬ ফেব্রয়ারি) দুপুরে মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে, দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইলেকশন মনিটরিং ফোরামে’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর পর, সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী, জার্মানির সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলকার ইউ. ফ্রেডরিক, ভুটানের গ্লোবাল ভিলেজ কানেকশন এর চেয়ারম্যান জ্যাকসন ডুকপা, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ফোরামের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বুয়েটের উপ উপাচার্য ও ফোরামের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান এবং কৃষিবিদ ড. আজাদুল হক বৈঠকে অংশ নেন।

ড. হাছান বলেন, “ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম প্রতিনিধিরা আমার সঙ্গে বৈঠকের জন্য এসেছিলেন। আপনারা জানেন যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১০৮ টি সংগঠন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। তার মধ্যে ৫১টি সংগঠনের মোর্চা হচ্ছে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম। তারা আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা বলেছেন যে তারা চান আগামী নির্বাচনে বিএনপির সহ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। যেখানে জনগণ উৎসাহ নিয়ে আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত করবে। এই ফোরাম গত নির্বাচনও মনিটর করেছে; আগামী নির্বাচনেও তারা মনিটরিং দল পাঠাবে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, সকল সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, আমাদের দেশেও ঠিক সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেভাবে চলতি সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করে, আমাদের দেশেও, বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।”

নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনী ভীতি পেয়ে বসেছে। তারপরও আমি আশা করবো তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।”

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জার্মান, নেপাল ও ভুটানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি এখানে এসেছেন। গতকাল (২৫ ফেব্রয়ারি) আমরা জাতীয় পার্টি, জাসদ এবং ইসলামী ফ্রন্টের সাথে আলোচনা করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে আমরা আগামী নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা করেছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা, যাতায়াতের বিষয়ে যাতে বেগ পেতে না হয় সে জন্য আমরা সরকারের সহায়তা চেয়েছি।”