ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ভবনে বিস্ফোরণ: নিহত ৩, আহত ১৪ জন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় এক বিস্ফোরণে তিন তলা এই ভবনের আংশিক ধসে পড়ে। রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় রবিবার(৫ মার্চ) বিস্ফোরণে একটি ভবন আংশিক ধসে পড়লে, অন্তত তিনজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়। পুলিশ বলছে, এটি একটি দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার শহীদুল্লাহ জানান, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই তিনজনের মৃত্যু হয়।আহতদের মধ্যে পাঁচজন-কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল ১০টা ৫২ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের পর তিন তলা ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট সেখানে কাজ করে। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন তুষার, শফিকুজ্জামান ও আব্দুল মান্নান। তুষার ও শফিকুজ্জামান কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। আর, আবদুল মান্নান একটি কোম্পানির অফিস সহকারী ছিলেন। তার অফিস ছিল ভবনের দ্বিতীয় তলায়।

আহতদের মধ্যে পাঁচজন হলেন; আয়েশা আক্তার আশা, হাফিজুর রহমান (৩৪), জহুর আলী (৬০), আকবর আলী (৫২) ও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান (৩৫)। তাদের সকলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আরো নয়জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন; নুরুন্নবী (২৭), তাজউদ্দীন (৩৫), মেহেদী হাসান (২৫), জাকির হোসেন জুয়েল (২৬), কামাল (৪০), কবির হোসেন (২৫), রাবেয়া খাতুন (২৩), তামান্না (২২) এবং অজ্ঞাত এক যুবক যার বয়স ২৫ বছর।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩।

নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা কোনো নাশকতা নয়, একটি দুর্ঘটনা। রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে কোনো নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি।বিভিন্ন কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটি তদন্ত করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কোনো স্প্লিন্টার বা ধ্বংসাত্মক উপাদানের চিহ্ন খুঁজে পায়নি।”