বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্মার্ট, উদ্ভাবনী এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে পাঁচটি মূল সহায়তা চেয়েছেন। এই সহযোগিতা শান্তি ও অন্তর্ভুক্তি-করণে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (৬ মার্চ) কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৫ম এলডিসি সম্মেলনে ‘ইনভেস্টমেন্ট ইন রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইন এলডিসিস ফর স্মার্ট এন্ড ইনোভেটিভ সোসাইটিস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।
সহায়তাগুলো হলো; জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় পদক্ষেপসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কার্যকরী প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক বেসরকারি খাতকে উপযুক্ত প্রণোদনা দেওয়া; এলডিসিগুলোতে ব্রডব্যান্ড বিভাজন এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা; এলডিসিগুলো যেসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবেলা করতে পেশাদার গবেষক এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি; উত্তরণের পরও, বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষি-রাসায়নিকের জন্য ট্রিপস চুক্তির অধীনে এলডিসি মওকুফের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে উদ্ভাবন এবং উন্নয়ন, উভয়ের জন্য উপযোগী একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করা।
এছাড়াও শেখ হাসিনা অংশগ্রহণকারীদেরকে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পরবর্তী রূপকল্পে আরো অনেক এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি চারটি মূল উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে; স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে ২০০৯ সালে যখন তার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তখন এটা একটা ‘রূপকথার’ মতো শোনাচ্ছিল। তিনি বলেন, “তবে করোনা মহামারী প্রমাণ করেছে যে আমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারি।”
শেখ হাসিনা বলেন যে মহামারী সবাইকে শিক্ষা দিয়েছে যে স্বল্পোন্নত দেশগুলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। তিনি বলেন, “উৎপাদন-সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই ধরনের বিনিয়োগ অপরিহার্য।”
তিনি আরো বলেন, “গবেষণা ও উন্নয়নে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গড় জিডিপি ব্যয় এখনো শূন্য দশমিক ছয় শতাংশের নিচে রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকটি, বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আগমনের কারণে, স্বল্পোন্নত দেশগুলো পিছিয়ে থাকতে পারবে না। আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ কাজের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমাদের অর্থপূর্ণ বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব দরকার।”
“তিনটি মানদণ্ডেই বাংলাদেশ ২০২১ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা এখন ২০২৬ সালে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই পরিবর্তনের সময়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা একটি জাতীয় চাহিদা মূল্যায়নের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের প্রযুক্তি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছি;” উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, “সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়।আমরা সারাদেশে অনেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার জলবায়ু অভিযোজন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন আরো কমানোর জন্য আমাদের প্রশমন প্রযুক্তির অভিগম্যতা প্রয়োজন। আমাদের সরকার পরিচ্ছন্ন শক্তি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। আমরা ভাসমান সৌর প্যানেল, অফশোর উইন্ড টারবাইন এবং সবুজ হাইড্রোজেন দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে আমাদের অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখি।”
তিনি আরো বলেন যে তার সরকার কৃষি গবেষণাকে সমর্থন করার ওপর জোর দিয়েছে, যা বাংলাদেশকে ক্ষুধা মোকাবিলায় এবং বহুলাংশে খাদ্য নিরাপদ হওয়ায় সহায়তা করেছে। চিকিৎসা গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের বর্তমান লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নতুন রোগের আবির্ভাবের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।”
“আমাদের অবশ্যই অবহেলিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগের গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকতে হবে। আমাদের অবিলম্বে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের জন্য নতুন চিকিৎসা বিকাশে বিনিয়োগ প্রয়োজন;” বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।