রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: ৩শ’ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

ফাইল ছবি- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ

বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর, অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক আমানত উল্লাহ বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, “পুলিশ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করেছে।” এর আগে, গত শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিবার বিকালে অজ্ঞাতনামা ৫ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

এ ঘটনায় তসলিম আলী ওরফে পিটার (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির।

রেললাইনে আগুন দিয়েছে বহিরাগতরা: উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেছেন, যারা রেললাইনে আগুন দিয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, বহিরাগত। সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক সাত্তার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থামাতে বোঝানোর চেষ্টা করেছি এবং সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি। আমরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছি শিক্ষার্থীদের। কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবে।”


উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, “ক্যাম্পাসে চলাফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।” তিনি জানান যে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলেও জানান উপাচার্য।

অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, “শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের গুলি করতে বলেনি।” ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একদল যুবক রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় রাজশাহী ও ঢাকার মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল করিম জানান, “ঐ রাতে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কাছে শিক্ষার্থীরা রেললাইনে আগুন দেয়।”

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর এলাকার ঐ সংঘর্ষে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।