নারায়ণগঞ্জে চার খুন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় ৪ এপ্রিল

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে, ২০০২ সালে সংঘটিত চার খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৪ এপ্রিল রায় দেবেন হাইকোর্ট।রবিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। দণ্ডিত ব্যক্তিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ। এর আগে, ২০১৭ সালের ৪ মে এই চার খুন মামলায় ২৩ অভিযুক্ত ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন; আবুল বাশার কাশু, ডালিম, ইয়াকুব আলী, রফিক, হালিম, রুহেল, শাহাবুদ্দিন, লিয়াকত আলী মাস্টার, সিরাজ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী, মোহাম্মদ হোসেন, আবু কালাম, আহাদ আলী, ইউনুছ আলী, জহির উদ্দিন, ফারুক হোসেন, গোলাম আযম, আব্দুল হাই, খোকন, আল-আমিন, রুহুল আমিন, তাজুল ইসলাম ও হারুন।

রায় ঘোষণার দিন এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাশার কাশুসহ ১৯ জনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত। বাকি চারজন পলাতক। এরা হলেন; আল-আমিন, রুহুল আমিন, তাজুল ইসলাম ও হারুন।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডিত ব্যক্তিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ১২ মার্চ বিলুপ্ত সদাসদি ইউনিয়নের (বর্তমান গোপালদী পৌরসভা) তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার কাশুর নির্দেশে, আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই আ. বারেক, তার ফুফাতো ভাই বাদল, আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও কবির হোসেনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

ঐ ঘটনায় নিহত আ. বারেকের বাবা আজগর আলী মেম্বার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে ২১ জনকে সাক্ষী এবং ২৩ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ৪ মে রায় দেন নিম্ন আদালত।

চার খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত সদাসদি ইউনিয়নের (বর্তমান গোপালদী পৌরসভা) তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার কাশুসহ মোট ১৯ জন কারাগারে রয়েছেন।