কাপ্তাইয়ের প্রাচীন তীর্থ সীতা মন্দিরে মহাবারুণী স্নান অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা বারুণী স্নান উৎসব। সনাতন ধর্মমতে, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে, প্রাচীন তীর্থস্থান সীতাঘাট মন্দিরে মহা বারুণী স্নান-এর মহালগ্ন শুরু হয়। এ উপলক্ষে রবিবার (১৯ মার্চ) হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে সীতাঘাট মন্দিরে।

মহাবারুণী স্নান উপলক্ষে শনিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং রাত ৮টায় মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার(২০ মার্চ) শেষ হয় এই মেলা।

চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সনাতন ধর্মের অনুসারীরা কর্ণফুলি নদীতে স্নান, সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দিরে পূজা দেয়া এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে সীতা দেবীর কাছে তাদের মনের বাসনা ব্যক্ত করেন।

এ উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও সীতা মেলা অনুষ্ঠিত শুরু হয়।এসময় সকল ধর্ম বিশ্বাসের মিলন মেলায় পরিণত হয় সীতা মন্দির। এই মন্দিরে বিভিন্ন প্রাচীন নির্দশন ঘুরে দেখের ভক্তরা।

মহাবারুণী স্নানে আসা অনেক ভক্ত জানান তারা সীতা দেবীর বিভিন্ন নিদর্শন ঘুরে ফিরে দেখছেন এবং মহাবারুণী স্নানে স্নাত হয়ে পবিত্র হচ্ছেন।

সীতাঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতন দাশ জানান, “এই সীতা মন্দিরে দূর- দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসছেন। সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির ও কালী মন্দির সহ মা সীতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখছেন ভক্তরা।”

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দাশ জানান, “এই স্থানে অনুষ্ঠান করতে অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়।”

সীতাদেবী মন্দির-এর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরী মহারাজ জানান, “এটি একটি অতিপ্রাচীন তীর্থস্থান। আমি বিশ্বের সকল ভক্তের কাছে অনুরোধ জানাই, সকলে মিলে এই তীর্থস্থানকে যেন জাগিয়ে রাখেন।”

মহাবারুণী স্নান উপলক্ষে, রবিবার (১৯ মার্চ) বেলা ১২টায় মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সনাতন সম্প্রদায়সহ সকল ধর্মের মঠ-মন্দিরের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু অবৈধ অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজ পার্বত্যঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চায় সবসময়। তাই তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”