সৌদি আরবে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সোমবারের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ জন।

এর আগে ১৩ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ২৪ জন ওমরাহ তীর্থযাত্রীর মধ্যে আরও পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের চারটি ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাসটি ৪৭ জন ওমরাহযাত্রীকে মক্কায় নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের মধ্যে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

সোমবার (২৭ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে আসির প্রদেশে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রেক ফেল করার পর বাসটি একটি সেতুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং আগুনে পুড়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাশ পুড়ে বিকৃত হওয়ার কারণে পরিচয় শনাক্ত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তা ঘটনার পরপরই এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করার এবং বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে আনতে কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বুধবার (২৯ মার্চ) বলেছেন, দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা বাড়তে পারে কারণ আহতাবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাংলাদেশি নাগরিকদের লাশ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রায় ২৪ ওমরাহ হজযাত্রী নিহত এবং প্রায় ২৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোক বার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সৌদি মিশনের কর্মীদের বাংলাদেশি নাগরিকদের লাশ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেন।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-নোয়াখালী জেলার সেনবাগের শরীয়ত উল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলার আব্দুল আউয়ালের ছেলে মামুন মিয়া ও মুরাদনগরের রাসেল মোল্লা, নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ হেলাল, লক্ষ্মীপুর জেলার সবুজ হোসেন, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মো. আসিফ ও সাফাতুল ইসলাম, গাজীপুর জেলার আব্দুল লতিফের ছেলে মো. ইমাম হোসেন রনি, চাঁদপুর জেলার কালু মিয়ার ছেলে রুক মিয়া, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারের গিয়াস হামিদ, যশোর জেলার কাওছার মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ইস্কান্দারের ছেলে রনি ও কক্সবাজার জেলার মোহাম্মদ হোসেন, রুহুল আমিন, খায়রুল ইসলাম, তুষার মজুমদার, মিরাজ হোসেন, আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাকিব ও রানা মিয়া।