জোটের শরিকদের মধ্যে বিরোধ বাড়ার জল্পনা-কল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো দুর্বলতা নেই।” রবিবার (২ এপ্রিল) বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা আপনাদের একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনো দুর্বলতা নেই এবং আমরা যুগপৎ আন্দোলনের গতি হারাইনি।”
বিএনপি ও জোটের শরিকরা শনিবার (১ এপ্রিল) সব শহর ও জেলা শহরে দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও, গণতন্ত্র মঞ্চ কর্মসূচি পালনে বিরত থাকে। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, “সারাদেশে কখনো কখনো বিএনপির কর্মসূচি যুগপৎভাবে পালন করা হয়। তবে তাদের মধ্যে এবিষয়ে বোঝাপড়া আছে যে প্রতিটি দল নিজস্ব কৌশলে কর্মসূচি পালন করতে পারে।”
তিনি বলেন, “তবে আমরা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং রাষ্ট্রের সংস্কারের মূল দাবিতে একমত হয়ে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এখন থেকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি কোনটি এবং কোনটি বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচি তা স্পষ্ট ঘোষণা করা হবে।”
বিএনপি মহাসচিব জানান, মূলত বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে তাদের আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা করা হবে।
শনিবারের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হামলায় বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে খুলনা ও নাটোরে অনেক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আহতদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলমান আন্দোলন ও ভিন্নমতকে দমন করতে এই হামলা করা হয়েছে। আমরা সরকারের দমনমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “সরকার জনমতকে দমন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করতে গত ১৪ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, গ্রেপ্তার, দমন চালাচ্ছে, জেলে ঢোকাচ্ছে। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করছে, বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে।”
বিএনপি মহাসচিব জানান যে তাদের বৈঠকে প্রথম আলোর প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে গ্রেপ্তার এবং সম্পাদক মতিউর রহমানসহ অন্যান্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (ডিএসএ) মামলা দায়েরের নিন্দা জানানো হয়। বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়। তিনি আরো জানবান, তাদের বৈঠকে ২৪ মার্চ রাজশাহীতে সরকারি কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম জানান, তারা যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারা আশা করছেন খুব শিগগিরই একটি যৌথ ঘোষণা উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।