জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনু সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো দূর করতে সংবিধান পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন। শনিবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
হাসানুল হক ইনু প্রধানমন্ত্রীকে ঐ কমিটির প্রধান করতে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব করেন। বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত যারা ‘দুর্নীতির রাজনীতি করে’ তারা তাদের তথাকথিত ২৭ দফা ও ১০ দফা দাবি নিয়ে সংবিধানকে সম্পূর্ণ পরিবর্তনের হুমকি দিয়েছে। বিএনপি পঁচাত্তরের পর করা তাদের অপকর্মের পক্ষে কথা বলছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের কথা বলছে, কিন্তু হৃদয়ে পাকিস্তান আছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি আসলে পাকিস্তানের প্রক্সি প্লেয়ার। বিএনপি সংবিধানকে ধ্বংস করে রাজাকারদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চায়।”
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে সার্বভৌম সরকার গঠনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।” ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাসদের সভাপতি বলেন, “মাইনাস-টু তত্ত্ব বাতিল করে সকল সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনা ঐক্যের পতাকা নিয়ে ২০০৮ সালে ১৪ দল ও মহাজোট গঠন করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আনেন।”
তিনি বলেন, “আরো অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে, সংবিধান সংশোধন করতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সংসদীয় কমিটি করা উচিত।” তার পরামর্শের মধ্যে রয়েছে; অনাস্থা বিল, অর্থ বিল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিল বাদ দিয়ে অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন করা, সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নের আরো ক্ষমতা দেয়া, সংসদের স্থায়ী কমিটি খোলা, সমস্ত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ ধারা সংশোধন করা।
হাসানুল হক ইনু সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেটে সার্বজনীন অভিগম্যতা অধিকার সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করার পক্ষে মত তুলে ধরেন এবং বিচারকদের নিয়োগ ও অভিশংসন পর্যালোচনা করার পক্ষে মত দেন।
জাসদ সভাপতি বলেন, “রাষ্ট্রের কোনো লিঙ্গ ও ধর্ম নেই। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।”