বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, এখন থেকে সারাবছর অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রবিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সারাদেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, “জানুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৮৭৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফিলিপিন্সে ১৯ হাজার ৪০৪ জন, জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভিয়েতনামে ১৫ হাজার ১২৯ জন, জানুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ১৪ হাজার ৯৮৯ জন, মালয়েশিয়ায় জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৮৮ জন, সিঙ্গাপুরে জানুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৯৬২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, “এই ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে অনেক ভালো অবস্থানে আছে। নিয়মিত মনিটরিং এর কারণে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। শহুরে এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। যে কারণে আমাদের সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এখান থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়, তা বাস্তবায়ন করতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। যে কারণে অন্য দেশগুলোর চেয়ে আমরা তুলনামূলক ভালো আছি।”
চলতি বছরে ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “গত বছর সমসাময়িক দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো ছিলো। তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি আছে কিনা; আরো কিছু করণীয় আছে কিনা; তা খতিয়ে দেখতে এই সভা করা হয়েছে। আগে আমরা মৌসুমী পরিকল্পনা নিতাম। এখন বছরজুড়ে পরিকল্পনা নিচ্ছি।”
তাজুল ইসলাম জানান, “আগে আমরা কয়েক মাস; এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম পরিচালনা করতাম। এখন আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত করছি। আগের সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা করবো। তবে এই সময়গুলোতে পিক সিজন ও লিন সিজন ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ এডিসের জন্য একটি উর্বর সময়, অন্যটি অনুর্বর মৌসুম। আমরা সেই অনুসারে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।