কমনওয়েলথের অভিভাবক হিসেবে ব্রিটেনের রাজার গুরুত্ব অপরিসীম: আব্দুল মোমেন

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আগামী ৪-৮ মে যুক্তরাজ্য সফর করবেন। ১ মে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এ শেখ হাসিনার সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, “আগামী ৬ মে বাকিংহাম প্যালেসে আয়োজিত যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্য জুড়ে এবং তার বাইরেও লাখ লাখ মানুষ রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, “আগামী ৬ মে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের পূর্বে ৫ মে বিকালে বাকিংহাম প্যালেসে মহামতি রাজা এবং কুইন কনসোর্টের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, একই দিনে মার্লবোরো হাউজে রাজার উপস্থিতিতে কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল কর্তৃক আয়োজিত কমনওয়েলথ লিডার্স ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন।”

“এবার ৭০ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান (কমনওয়েলথভুক্ত অধিকাংশ দেশের সরকার প্রধানসহ) অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ এর অভিভাবক হিসেবে ব্রিটেনের রাজার গুরুত্ব অপরিসীম;” বলেন আব্দুল মোমেন।

ড. মোমনে বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তরাজ্য এখন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ উৎস ও রেমিটেন্সের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস। এসবের পাশাপাশি রাজনৈতিক, উন্নয়ন সহযোগিতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ইতাদি খাতে দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়ে উঠছে। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে রাজি হয়েছেন।”

তিনি আরো জানান, এ সফরে কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে পারেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের একটি হোটেলে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

এ কে আব্দুল মোমেন আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ মে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল ও অর্থবহ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আব্দুল মোমেন বলেন, “বিশ্বব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ একটি মডেল দেশ। আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক আছে। তারা বাংলাদেশের চিত্তাকর্ষক উন্নয়নকে অন্যান্য দেশের কাছে একটি মডেল হিসেবে বর্ণনা করে।”

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর প্রেসিডেন্ট ডেভিড আর ম্যালপাস ১ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান।

মোমেন বলেন, “মূলত (যুক্তরাষ্ট্রে) আমরা বিশ্বব্যাংকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছি।” এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ আছে বলে কখনো শুনিনি। আমরা গুজবে কান দেই না। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল ও অর্থবহ হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আগামী ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে ‘রিফ্লেকশন অন ফিফটি ইয়ার্স অফ বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হবে।সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ভাষণ দেবেন।

বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা’র সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। ৪ মে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করার কথা রয়েছে।