বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার (কুস্তি প্রতিযোগিতা) ১১৪তম আসর শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিলে) থেকে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে ২৪ এপ্রিল থেকে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা রকম পণ্য নিয়ে এসেছেন ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা।
মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র, গাছের চারা, ফুলের ঝাড়, হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, শীতল পাটি, দা, বটি, ছুরিসহ নানা ধরনের গৃহস্থালী ও লোকজ পণ্য সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বলীখেলা তথা কুস্তি প্রতিযোগিতায় আংশ নেবে শতাধিক কুস্তিগীর। লালদীঘি ময়দানে ইতোমধ্যে বলীখেলার জন্য বালু দিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে উজ্জীবিত করতে, বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে এ কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিতি লাভ করেছে।১৯০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বলীখেলার একদিন আগে থেকে শুরু করে, পরের দিন পর্যন্ত মোট তিনদিন ধরে লালদীঘির পাড়সহ আশপাশ এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বসে মেলা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ জব্বারের বলীখেলার আয়োজন করা হয়। এই খেলা শুধু খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গেছে। এই খেলাকে ছড়িয়ে দিতে আমরা একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি করবো।”