বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টদের বাংলাদেশ সফর
১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি, স্বাধীনতার মাত্র একমাস পরে, বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা বাংলাদেশে সফর করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের আলাপে তাঁরা বাংলাদেশের বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদস্য হওয়া নিয়ে কথা বলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাকনামারা। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক মুখপাত্র এই বৈঠককে 'খুবই সন্তোষজনক' বলে ব্যাখ্যা করেন। সংবাদপত্রে এমনটাই জানানো হয়।
১৯৯০ সালের ৯ মার্চে প্রেসিডেন্ট বারবার বি কোনেবেল বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। ছবিতে ১৯৯০ সালের ৪ অক্টোবর, ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাটিলা কারাওসমানোগলু ও বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনেবেলকে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে।
১৯৯৭ সালের অক্টোবরে পাঁচদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন প্রেসিডেন্ট উলফেনসন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলা গ্রামীণ প্রকল্পগুলি পরিদর্শন করেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়ার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যমুনা সেতু প্রকল্পের নির্মাণস্থলও ঘুরে দেখেন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পল উলফউইৎজের প্রথম দক্ষিণ এশিয়া সফর ছিল ২০০৫ সালের আগস্টে। এই সফরে বাংলাদেশের ঢাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সফর চলাকালে প্রেসিডেন্ট এই দেশের উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা বিষয়ে কথা বলেন।
২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জোলিক দুই দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরে তিনি সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদের মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন কর্তৃপক্ষের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা, ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোনে (ইপিজেড) গার্মেন্ট কারখানার মালিকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
ইপিজেডগুলি সেই সব জেলায় ২ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করতে সাহায্য করেছিল যেখানে ২০০৭ সালে এগুলি নির্মাণ করা হয়। এই একই বছরে, রপ্তানি আয়ের ১৮ শতাংশ এসেছিল ইপিজেডগুলি থেকে। বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্ট শিল্পের চলমান প্রবৃদ্ধির জন্য ইপিজেডের প্রাসঙ্গিকতাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জোলিক। তিনি বলেছিলেন, বৈশ্বিক বাজারে কার্যকরী অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট কিম দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। রেকর্ড সময়ে দারিদ্র্য হ্রাস করতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বকে চিহ্নিত করতে ও দারিদ্র্য পরিসমাপ্তি দিবস উদযাপন করতে তার এই সফর। ১৯৯১ সালের ৪৩.৫ শতাংশ থেকে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়ে ২০২০ অর্থবর্ষে তা দাঁড়ায় ১২.৫ শতাংশে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জেলার উদ্যোগ ও প্রতিক্রিয়া কী তা পর্যবেক্ষণ করতে তিনি বরিশালেও গিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট কিম জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য ২ হাজার কোটি ডলারের ঘোষণা করেন।