ফাঁকি রোধ করা গেলে কর-জিডিপি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সিপিডির আলোচনা

ঢাকার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে, ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিপিডি আয়োজিত ‘ডিজিটাল অর্থনীতিতে ট্যাক্স বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা। ২৯ এপ্রিল, ২০২৩।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে ডিজিটাল অর্থনীতিতে কর আরোপ এবং দেশীয় ও অনাবাসী উভয় বহুজাতিক কোম্পানির কর ফাঁকি রোধ করা গেলে, আইএমএফ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে, ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিপিডি আয়োজিত ‘ডিজিটাল অর্থনীতিতে ট্যাক্স বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা এমন মত প্রকাশ করেন।

তারা উল্লেখ করেন যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ডিজিটাল অভিযোজনের মাধ্যমে কর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে, আগামী ৩ বছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত, এখনকার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ-তে পৌঁছাতে পারে।

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান এই বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন; এতে তিনি ডিজিটাল অর্থনীতিতে কর আরোপের কিছু ক্ষেত্র এবং ২০২৬ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তুলে ধরেন। তিনি দেখিয়েছেন যে বিভিন্ন নীতি পরিকল্পনায় উচ্চ রাজস্ব ও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ট্যাক্স-জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। প্রকৃত অনুপাত ছিলো তার অর্ধেকের নিচে। বাংলাদেশকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৩৪ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

আইএমএফের সুপারিশ অনুসারে, কর-জিডিপি অনুপাত ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা রয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ বেশি।

প্রেজেন্টেশনে, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও নেটফ্লিক্সের মতো অনাবাসী টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে কর ফাঁকির বিরুদ্ধে এনবিআরের মনিটরিং জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “দেশে করযোগ্য ব্যক্তির তুলনায় ব্যক্তিগত করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। জনগণকে আয়কর দিতে উৎসাহিত করার জন্য ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য বার্ধক্য সুবিধা চালু করা যেতে পারে।”

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, “কর-জিডিপি অনুপাত কেন বাড়ছে না, তা সরকার ও সংসদের আগে অনুধাবন করা উচিত। ফাঁক খুঁজে পাওয়ার পর, এটি সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।”

তিনি আরো বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি বাধা, তাই সরকার সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা করার জন্য অন্যান্য আইনের বিধান রাখতে পারে।”

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কর রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য পাঁচটি পয়েন্ট তুলে ধরেন। তিনি বলেন “স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, নির্ভীকতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কর আদায়ের পদ্ধতিতে সরলতা নিশ্চিত করা গেলে কর আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”