রাতের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকা সত্বেও, সোমবার (১৫ মে) দিনের বেলায় বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকায় ৬০০ মেগাওয়াট-এর বেশি লোডশেডিং হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েকদিনের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ফলে সারাদেশের গ্রাহকরা দিনের বিভিন্ন সময়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সন্ধ্যার পর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হবে।” তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহের এই পরিস্থিতির জন্য গ্যাস সংকট-কে দায়ী করেন।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “আসলে আমরা কম গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছি, তাই আমরা সারাদেশে অন্তত ২৫টি জেনারেশন ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। বিপিডিবি যদি গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ পায়, তবে তাদের গ্যাসচালিত প্ল্যান্ট থেকে ৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।”
তিনি বলেন, “কিন্তু এখন আমরা ৪ হাজার ৬৬৭ মেগাওয়াট উৎপাদন করছি এবং গ্যাসের ঘাটতির জন্য প্রায় ১ হাজার ৮৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমির আলী জানান, “সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় দিনে ৩০৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ডেসকো ১ হাজার ১১১ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট পাচ্ছে।”
ঢাকা শহরের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অংশে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব ডেসকো-কে দেয়া হয়েছে। আর, ঢাকা শহরের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, “ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে, যা সন্ধ্যার পর বাড়তে পারে। ডিপিডিসি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট-এর বেশি চাহিদার বিপরীতে ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে, তাই ৩৪০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
ভোক্তাদের অভিযোগ, তারা অনেক বেশি লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে। কিছু এলাকায় মানুষ প্রতিঘন্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
রাজধানীর নিকেতন এলাকার বাসিন্দা আবদুস সেলিম বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যায় এবং আমরা প্রতিঘন্টায় লোডশেডিং হতে দেখছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মগবাজার এলাকার নাজিম উদ্দিন।
রবিবার (১৪ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন যে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে দুই দিন সময় লাগবে।