বাংলাদেশে সম্পত্তি কর থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব—সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্পদের বৈষম্য কমাতে এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে সম্পত্তি কর ও উত্তরাধিকার কর আরোপের উপর সংলাপ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্পদের বৈষম্য কমাতে এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে সম্পত্তি কর ও উত্তরাধিকার কর আরোপের প্রস্তাব করেছে।

সিপিডি বলছে, তাদের সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সম্পত্তি কর থেকে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব।

‘সম্পদ কর আহরণের সুযোগ’ (স্টেট অ্যান্ড স্কোপ অব প্রোপার্টি ট্যাক্সেশন ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক সংলাপে এ প্রস্তাব আসে।

বুধবার (২৪ মে) সিপিডি ঢাকার লেক শোর হোটেলে এ সংলাপের আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই বিষয়ে একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্পত্তি কর, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং উত্তরাধিকার কর সঠিকভাবে আদায় সম্পদের বৈষম্য কমানোর সুযোগ তৈরি করবে।

উত্তরাধিকার কর হলো সম্পদ করের একটি রূপ, সম্পত্তির ওপর আরোপ করা হয় এবং অর্থ, সম্পদ বা উত্তরাধিকার থেকে অর্জিত হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সম্পদ এবং আয়ের বৈষম্য কর সংগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ন্যায্যতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য এবং ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের প্রবণতা মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় ও কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “সুতরাং, সম্পদ কর প্রবর্তন এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে”।

বর্তমানে, দেশে সম্পদ কর হিসেবে উল্লেখ করা কোনো নির্দিষ্ট কর নেই। ৬ ধরনের কর ও শুল্ক রয়েছে, যেগুলোকে মোটামুটিভাবে সম্পদ-সম্পর্কিত কর হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে-ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং ট্যাক্স, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, সম্পদ সারচার্জ এবং উপহার কর; যদিও এর প্রয়োগ সীমিত।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “এ ছাড়াও, আত্মীয়দের কাছ থেকে উপহার পাওয়া সম্পদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট কর আরোপ করা হয় না বা কোনো প্রকার উত্তরাধিকার ট্যাক্স নেই”।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে সংলাপে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশিষ বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উপস্থিত ছিলেন ইইউর বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রধান মাউরিজিও সিয়ান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ ও ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।