ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় তাদের অপর্যাপ্ত তহবিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনের প্রশংসা করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা রোহিঙ্গা মামলার জন্য তহবিল প্রদানে ওআইসি তাদের উৎসাহিত করবে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে ওআইসি মহাসচিব রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সংস্থাটির নিরলস সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে ওআইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করে হিসেন ব্রাহিম তাহা আইসিজেতে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে ওআইসির দৃঢ় সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসারে, তিনি (মহাসচিব) বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ওআইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছে।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অপরিসীম উদারতার কথা স্বীকার করে হিসেন ব্রাহিম তাহা বলেন, দীর্ঘদিনের এই সংকট সমাধানে বোঝা ভাগাভাগি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সব রোহিঙ্গার নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান রইল।
হিসেন ব্রাহিম তাহা ও তার সফরসঙ্গীরা সোমবার (২৯ মে) কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁকে স্বাগত জানান।
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে হিসেন ব্রাহিম তাহা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা নিরাপদে তাদের পৈতৃক ভিটে-মাটিতে ফিরে যাওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা তাঁকে অবহিত করেন।
হিসেন ব্রাহিম তাহা তাদের উদ্বেগের কথার নোট নেন এবং এই মানবিক সংকট নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে ওআইসির সহায়তার আশ্বাস দেন।