ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী মার্চের মধ্যে ইউক্রেনকে ১০ লক্ষ আর্টিলারি শেল ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পূর্বঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনের আগে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এ কথা স্বীকার করেন।
পিস্টোরিয়াসের এই মন্তব্যটি ইইউর কোন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রথম স্বীকারোক্তি যে, তারা লক্ষ অর্জন করত পারবে না। তবে গত কয়েক মাস ধরে অনেকে এ’ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে।
রুশ হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায়, গত মার্চে ইউক্রেনের আর্টিলারি শেলের প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে এই অঙ্গীকার করা হয়।
এই অঙ্গীকারটি ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য একটি ত্রি-পাক্ষিক প্রোগ্রামের অংশ ছিল। প্রথম অংশে ইইউ সদস্য দেশগুলি তাদের নিজস্ব মজুদ থেকে সরবরাহ ঠিক রাখার কথা ছিল।
দ্বিতীয় অংশে ইইউ দেশগুলি একটি যৌথ ক্রয় উদ্যোগের অধীনে নতুন শেল অর্ডার করে।
পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়াতে ইইউ অস্ত্র নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ
জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয়
পিস্টোরিয়াসের স্বীকারোক্তি আসল এমন সময়ে, যখন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট আগামী বছর ইউক্রেনের জন্য দেশটির সামরিক সহায়তা দ্বিগুণ করে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে বার্লিনের একটি রাজনৈতিক সূত্র রবিবার জানিয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলে, জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় তার মোট দেশজ উৎপাদনের ২.১ শতাংশে উন্নীত হবে। এর পরিমাণ নেটোর সমস্ত সদস্য দ্বারা প্রতিশ্রুত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পার্লামেন্টে ওলাফ শোলজের নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে পশ্চিমা নিরাপত্তা অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, চার বছরের মধ্যে বার্ষিক ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই বিষয়ে জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশের আপত্তির মধ্যেই জার্মানির এই প্রস্তাব আসে।
আসন্ন শীতে ইউক্রেনের অবকাঠামোর উপর রাশিয়ার নতুন হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে প্রাত্যহিক ভিডিওতে রবিবার সতর্ক করে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে স্থল হামলার সাথে সাথে, রাশিয়া থেকে ড্রোন হামলার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
রিচার্ড গ্রিন এবং কলিন কিলপ্যাট্রিক এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছেন।