যুক্তরাষ্ট্র কতৃক তহবিল জব্দ করার প্রতিবাদে আফগানিস্তানে বিক্ষোভ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের রাস্তায় একটি বিক্ষোভ চলাকালীন গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সাথে লড়াই করা লোকেরা 'আমাদের খেতে দিন' লেখা একটি ব্যানার ধরে রেখেছে। ২১শে ডিসেম্বর, ২০২১।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা আফগানিস্তানের আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করার দাবিতে, কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী মঙ্গলবার কাবুলের রাস্তায় মিছিল করেছে।

বিক্ষোভকারীরা আমেরিকা বিরোধী স্লোগান দেয় এবং আফগানিস্তানের রাজধানীতে বন্ধ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের বহনকৃত ব্যানারে লেখা ছিল, "আমাদের জমানো টাকা ফেরত দাও" এবং "আমাদের খেতে দাও।"

পৃথকভাবে, কয়েক ডজন আফগান বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি কাবুলে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করে, যাতে ওয়াশিংটনকে বৈদেশিক রিজার্ভ অবমুক্তির আহ্বান জানানো হয়। এসময় তারা জোর দিয়ে বলে, তালিবানকে লক্ষ্য করে আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা "অরাজনৈতিক" আফগান বেসরকারি খাত এবং সাধারণ শ্রমিকদের উপর "বিধ্বংসী প্রভাব" ফেলেছে।

আয়োজকরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে সম্বোধন করা একটি খোলা চিঠির অনুলিপি বিতরণ করেন। যেখানে তারা লিখেছেন যে, পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান প্রশাসনের পতনের ফলে, সরকারী চুক্তি এবং আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়িত প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত পরিষেবার জন্য, ৬০ কোটি ডলারের অবৈতনিক বিল বকেয়া রয়েছে।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামপন্থী তালিবান, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই, ওয়াশিংটন কাবুলের প্রায় ৯৪০ কোটি ডলার অবরুদ্ধ করে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা হয়েছিল।

জব্দ করা অর্থ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে, গত ২০ বছর ধরে বাইরের সহায়তার উপর নির্ভরশীল আফগান অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ, খরা এবং চরম দারিদ্র্য থেকে উদ্ভূত এই সংকট আফগানিস্তানে রেকর্ড মাত্রায় মানবিক সহায়তার চাহিদা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব মতে প্রায় ৪ কোটি আফগান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুধার্ত, এবং ১০ লক্ষ শিশু "তীব্র অপুষ্টিতে" মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।