তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে এক মানহানি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটুক্তির ঘটনায় গত রাতে তাকে ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আব্দুর রবের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুটি মামলায় উচ্চ আদালত আগাম জামিন দিলেও রংপুরের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার পর দিন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে ফোন করে এবং একাত্তর টেলিভিশনের উপস্থাপককে চিঠি লিখে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মাসুদা ভাট্টি প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। গত ১৬ই অক্টোবর একটি টকশোতে মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন যে জবাব দেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। মাসুদা ভাট্টি তাকে প্রশ্ন করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি উপস্থিত থাকেন নাগরিক হিসেবে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি কি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত থাকেন। জবাবে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আপনার দুঃসাহসের জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোন প্রশ্নই নেই।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সমালোচনা করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন আমরা যা করার করবো। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা জরুরি ছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী
Your browser doesn’t support HTML5
ব্যারিস্টার মইনুল কারাগারে