ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে দুই দিনের সফর শেষে সোমবার দুপুরে দেশে ফিরে গেছেন। ঢাকা ছাড়ার আগে সুষমা স্বরাজ রাজধানীর বারিধারায় এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন ভবন এবং ভারতীয় অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭১ কোটি টাকার ১৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে সবার আগে প্রতিবেশী দেশগুলোকে গুরুত্ব দেয়া
হয়ে থাকে এবং এই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ। এই দুই প্রতিবেশী সমুদ্র সীমা এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Your browser doesn’t support HTML5
জহুরুল আলম
পুরো সফরে তিস্তা ইস্যুতে কোন কথা বলেননি সুষমা স্বরাজ। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ভাবে কাজ করছে দুই দেশ।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে যে সকল মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে ঢাকা আর দিল্লির অবস্থানে এত দিন কিছুটা পার্থক্য ছিল। সরাসরি বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় তাদের থাকা-খাওয়ার দায় চেপে যায় বাংলাদেশের ওপর। ভারতের দুশ্চিন্তা ছিল, আগেই যে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা এ দেশে ঢুকে বসে আছে, তার ওপর যেন বাংলাদেশ থেকে নতুন রোহিঙ্গা না ঢোকে। যারা এ দেশে আছে, তাদেরও মায়ানমারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
এ বার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশই এক মত হয়েছে যে, যত রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছে, তাদের প্রত্যেককে ফিরিয়ে নিক মায়ানমার।
Your browser doesn’t support HTML5
গৌতম গুপ্ত
ঐ রাখাইন প্রদেশই তো রোহিঙ্গাদের আসল বাসস্থান। এ কাজ কেমন করে ঘটে উঠবে, তা পরের প্রশ্ন। আপাতত দুই দেশই শরণার্থীদের ফেরান নিয়ে চাপ দেবে মায়ানমারকে। সুষমার মতে, রাখাইনে দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নতি ঘটালে তবেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন সহজ হতে পারে। আপাতত শরণার্থীদের দায় বহন করতে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে ভারত।